রোনালদোর ঘুমের কোচ, নেইমারের আছে বেতনভুক্ত বন্ধু!

সংগৃহীত ছবি
ফুটবলারদের সব কাজ নাকি অন্যরা করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ খাঁটি। দেখে নেওয়া যাক ফুটবলারদের সবচেয়ে অদ্ভুত কিছু কর্মচারীদের তালিকা। এটা চোখ কপালে তোলার মতোই ব্যাপার।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
রোনালদোকে দেখে মনে হয়, জেগে থাকা প্রতিটি মুহূর্তই তিনি সেরা ফুটবলার হওয়ার পেছনে ব্যয় করেন। তার ঘুমানোর সময়টাও ব্যতিক্রম নয়!
রোনালদো তার শারীরিক সুস্থতা ও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে 'স্পোর্টস স্লিপ কোচ' নিক লিটলহেলসকে নিয়োগ দেন। এই লিটলহেলস কাজ করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, লিভারপুল, চেলসি আর ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সঙ্গে।
মানুষের শরীরে প্রতি সপ্তাহে ৯০ মিনিটের মোট ৩৫টি ঘুমের চক্র (স্লিপ সাইকেল) প্রয়োজন-অর্থাৎ দিনে ৫টি সাইকেল। সেটা রাতে একটানা ঘুম থেকেই হোক বা দিনে ছোট ছোট ঘুম বা ঝিমুনিতেই হোক। লিটলহেলস সেই চক্রটাই তৈরি করে দেন রোনালদোর জন্য।
জশুয়া জার্কজি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জশুয়া জার্কজি কেবল নিজের ওয়্যারড্রোব বা কাপড়ের আলমারি গুছিয়ে রাখার জন্য আলাদা লোক রেখেছেন! মাঠের ফুটবলে সবসময় সেরা ছন্দে না থাকলেও, মাঠের বাইরে নিজের পোশাকের ব্যাপারে জশুয়া জার্কজি একেবারে আপসহীন। নেদারল্যান্ডস থেকে ব্যক্তিগত ফ্যাশন স্টাইলিস্ট সিডনি লুচিসকে উড়িয়ে আনেন তিনি।
লুচিসের কাজ শুধু তার ওয়্যারড্রোব বা আলমারি সাজিয়ে দেওয়া। তিনি শুধু আলমারি গুছিয়ে দেন, অপ্রয়োজনীয় জামাকাপড় সরিয়ে ফেলে নতুন পোশাকের জায়গা করে দেন আর কাজ শেষে দেশে ফিরে যান।
নেইমার
টাকা দিয়ে কি বন্ধু পাওয়া যায় ন? নেইমারের কথা শুনলে মনে হবে-হ্যাঁ, যায়!
এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার বন্ধুদেরই নিজের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সাতজন বন্ধুকে নিয়ে তৈরি এই দলটির নাম ‘টুয়াইস’ বা 'আমরা'। তাদের প্রতি মাসে দেওয়া হতো ৮,০০০ পাউন্ড। সেই বন্ধুদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল ফটোগ্রাফি, সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট তৈরি, আর্থিক হিসাব রাখা, রুমে একসঙ্গে থাকা, তারকাদের পার্টি আয়োজন করা এবং মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া!
জার্মেইন ডিফো
২০১৫ সালে কানাডার টরন্টো থেকে ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ডে যোগ দেন জার্মেইন ডিফো। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে স্থায়ী হওয়ার সময় তিনি একজন এগজিকিউটিভ পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য বিজ্ঞাপন দেন।
যোগ্যতা অনুযায়ী এই পদের বেতন ছিল বছরে ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ পাউন্ড। তবে কাজের বিবরণটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। কর্মচারীকে ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত থাকতে হতো। তার কাজের মধ্যে ছিল—ফ্রিজে খাবার সরবরাহ রাখা, বিল দেওয়া, পোশাক বাছাই করা, গাছে পানি দেওয়া, সামাজিক কাজের শিডিউল তৈরি করা, ছুটির দিন ও বিশেষ বার্ষিক উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করা, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগ দেওয়া, ড্রাই ক্লিনিংয়ে জামাকাপড় দেওয়া, মালি ঠিক করা এবং এমনকি ডিফোর পরিবার ও পোষা প্রাণীর দেখভাল করা।
মারিও বালোতেল্লি
মারিও বালোতেল্লির মতো খেলোয়াড়ের জন্য ম্যানচেস্টার সিটি একজন 'বেবিসিটার' বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেবে—তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই বালোতেল্লিই নিজের বাথরুমে আতশবাজি পুড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন!
তাই ক্লাব থেকে একজন বয়স্ক নারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যিনি নিয়মিত তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর রাখতেন। তিনি ঘর পরিষ্কার করতেন, কাপড় ইস্ত্রি করতেন, বালোতেল্লির প্যাডের খেয়াল রাখতেন এবং সবচেয়ে বড় কথা-তরুণ মারিও যেন ঘরে কোনো বিপজ্জনক কাণ্ড না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতেন।
এই কড়া মেজাজের তত্ত্বাবধায়কের রসিকতা করে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মিসেস ডাউটফায়ার’।
অ্যান্থনি
২০২৪ সালের এপ্রিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি নিজের জন্য একজন ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার নিয়োগ করেন। প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম গোলটি উদযাপনের সময় এই ব্রাজিলিয়ান সোজা তার সেই নিজস্ব ক্যামেরাম্যানের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন।
তবে আফসোসের হলো, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অ্যান্থনির ক্যামেরাম্যানের তোলার মতো খুব বেশি ভালো মুহূর্ত তৈরি হয়নি।
পল পগবা
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ভালো পারফর্ম করতে না পারা আরেক তারকা পল পগবা। এই ফরাসি মিডফিল্ডার চেশায়ারে নিজের বিলাসবহুল বাড়িতে একটি বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম তৈরি করেছিলেন, যা তাঁর প্রিয় 'পগফিশ' দিয়ে ভরা ছিল। মাছগুলোকে সঠিক সময়ে খাবার দেওয়া এবং তাদের পেট ভরা রাখার জন্যই পগবা আলাদা লোক নিয়োগ করে রেখেছিলেন!







