বিশ্বকাপ
পতাকা নিয়ে ইরান-ফিফা দ্বন্দ্ব, বিক্ষোভের শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
ইরানের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে টানাপোড়ন চলছে বহুদিন হলো। টুর্নামেন্ট শুরুর দ্বারপ্রান্তে এসে নতুন বিতর্কে জড়াল ইরান-ফিফা। বিশ্বকাপে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একটি সংগঠন। এমনটা না করলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে তারা।
‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ নামের অলাভজনক সংগঠনটি গত সপ্তাহে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম বিবৃতিতে জানায়, তারা ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা শান্তিপূর্ণভাবে প্রদর্শনের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, দাবি মানা না হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এদিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ফিফার কাছে ওই পতাকাটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা এবারের বিশ্বকাপে দর্শকদের এমন কোনো পতাকা বা পোশাক নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যেখানে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে।
ফিফার দাবি, এই প্রতীক তাদের আচরণবিধির পরিপন্থী। সংস্থাটির নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক’ ব্যানার, পতাকা, পোশাক বা অনুরূপ সামগ্রী স্টেডিয়ামে অনুমোদিত নয়।
তলোয়ারধারী সিংহ ও সূর্যের প্রতীক সংবলিত এই পতাকা ১৯৮০ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানে ব্যবহৃত হতো। লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী ইরানি নাগরিক এমেল কারসাজ বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বিরোধীদের জন্য এই প্রতীক প্রদর্শনের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী মাসে বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে। কারসাজের ভাষায়, ‘এই সিদ্ধান্ত মানুষকে এতটাই ক্ষুব্ধ করবে যে আমি নিশ্চিত, বড় ধরনের প্রতিবাদ দেখা যাবে।‘
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ইরান তাদের প্রথম দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে। এরপর তৃতীয় ম্যাচের জন্য দলটি যাবে সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে।






