সেরা বোলারকে ছাড়াই যাবে অস্ট্রেলিয়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার স্বপ্নটা আপাতত অধরাই থেকে গেল নাহিদ রানার। বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গতির ফাস্ট বোলার ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন পুরো সিরিজ থেকেই। অথচ আগামী ১২ আগস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শুরু বাংলাদেশের এই সিরিজই হতে পারত তার স্বপ্নের সিরিজ।
অস্ট্রেলিয়ার উইকেট সবসময় ফাস্ট বোলার সহায়ক, সেখানে গতির সঙ্গে থাকে বাউন্সও। নিজের বোলিংয়ের প্রধান দুই অস্ত্র কাজে লাগাতে পারতেন নাহিদ। অজি ব্যাটারদের ভালোভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত তার ফাস্ট বোলিং। অথচ এই অস্ত্রকে ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
শনিবার ক্রিকেটারদের ইনজুরির সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে নাহিদ রানার খবরে। গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার সময় বাঁ পাশের পাঁজরের পেশিতে (সাইড স্ট্রেইন) চোট পেয়েছিলেন তিনি। স্ক্যানে ধরা পড়েছে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন। এ ধরনের চোট সারতে টিস্যু হিলিংয়ে প্রায় চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে দুই থেকে চার সপ্তাহ বোলিংয়ের ওয়ার্কলোড বাড়াতে হবে। সব মিলিয়ে মাঠে ফিরতে তার ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে অস্ট্রেলিয়া সফরে তার খেলার কোনো সম্ভাবনাই থাকছে না।
নাহিদের অন্তর্ভুক্তির পর থেকে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের পেস অ্যাটাক। মাত্র ১২ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট। দেশের মাটিতে ৬ টেস্টে ২৩ উইকেটের পাশাপাশি বিদেশেও তার সাফল্য কম নয়। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ— সব মিলিয়ে বিদেশের মাটিতে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তার গতিতে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং।
২০২৪ সালে মাত্র ছয় টেস্টে নিয়েছিলেন ২০ উইকেট। ২০২৫ সালে চার টেস্টে তার শিকার ছিল ৭ উইকেট। আর এই বছরে মাত্র দুই টেস্টেই তুলে নিয়েছেন ১১ উইকেট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ৩২ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তার ওপরে আছেন তাসকিন আহমেদ (৩৯) ও হাসান মাহমুদ (৩৩)।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে নাহিদ ছিটকে যাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তার কথা অনুযায়ী নাহিদকে প্রস্তুত করতেই খেলানো হয়েছিল জিম্বাবুয়েতে, ‘নাহিদ রানার ইনজুরি পুরোপুরি দুর্ঘটনা। আসলে একটা সিরিজের আগে একজন ক্রিকেটারকে পর্যাপ্ত প্রস্তুত হতে হয়। সেজন্য যথেষ্ট বোলিং করতে হতো নাহিদকে। সেটি অতিরিক্ত না, আবার কমও না। ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য ফিট করে তুলতেই তাকে জিম্বাবুয়েতে খেলানো হয়েছিল। সেদিক থেকে তার এই ইনজুরিতে পড়া একটা দুর্ঘটনা।’
শুধু নাহিদই নন, প্রথম টেস্টে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ১৪ জুলাই পড়েছেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে। পুনর্বাসন ভালোভাবে এগোলেও ২৯ জুলাইয়ের আগে বোলিং শুরু করতে পারবেন না তিনি। তাই দলের সঙ্গে গেলেও ১৩ আগস্ট থেকে শুরু প্রথম টেস্টে এই বাঁহাতি পেসারের খেলার সম্ভাবনা নেই। সবকিছু ঠিক থাকলে ২২ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি ফিরতে পারেন।
একই অবস্থা লিটন কুমার দাসের। বাঁ পায়ের কাফ মাংসপেশির চোটের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। ২৮ জুলাই থেকে দৌড় ও ফিটনেস কার্যক্রম শুরু করবেন। ১৩ আগস্টের ফিটনেস পরীক্ষা উতরাতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বিবেচনায় আসতে পারেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসনে থাকা এবাদত হোসেনও নেই এই সফরে। প্রথম সন্তানের জন্ম উপলক্ষে ইতালিতে স্ত্রীর পাশে আছেন তিনি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ অনেকটাই সাদামাটা। ব্যাটিংয়েও লিটনের অনুপস্থিতি প্রথম টেস্টে বড় শূন্যতা তৈরি করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে সাফল্য, তার অন্যতম ভিত্তি ছিল শক্তিশালী পেস আক্রমণ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে সেই ছবিটাই বদলে গেছে। তাই তাসকিন আহমেদকে ঘিরেই গড়ে উঠবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। সঙ্গে থাকবেন হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ। তাই অভিজ্ঞ তাসকিনের কাঁধেই দায়িত্ব বেশি।




