৪০০’র পৃথিবীতে অচল ‘২০০ রানের’ বাংলাদেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘নো’ বলের ফ্রি হিটে যখন আউট হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, সেই বলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা ঝুঁকি নিতে চান না। খেলতে চান না হাওয়ায় ভাসানো শট। সামর্থ্য নেই বল সীমানার ওপারে পাঠানোর। তাই ৩০০ বলের খেলায় দুইশ রান তুলতেই বাংলাদেশ খাবি খায়, যেখানে অন্য দলগুলো চারশর ওপরে রান করাটাকে রীতিমতো রোজকার ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছে।
ঐকিক নিয়মে ৩০০ বৈধ ডেলিভারি থেকে ৪০০ রান করতে হলে দলের ব্যাটারদের গড় স্ট্রাইক রেট থাকতে হবে ১৩৫-এর কাছাকাছি। অন্তত শীর্ষ তিন-চার ব্যাটারের দুজনকে খেলতে হবে বড় ইনিংস, সেটাও দেড়শ স্ট্রাইক রেটে। কাজে লাগাতে হবে শুরুর ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের সেই সামর্থ্যই নেই, এ যেন কামানের বিপরীতে ভোঁতা ছুরি হাতে লড়াই করা। বাংলাদেশের হয়ে ৯ ওয়ানডেতে ইনিংসের সূচনায় নেমেছেন নাঈম শেখ, তার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে গড় ১২ এবং স্ট্রাইক রেট ৫৬। এ ধরনের ব্যাটার ওয়ানডে দলে সুযোগ দেওয়া আর ঠেলাগাড়ি নিয়ে ফর্মুলা ওয়ান রেসট্র্যাকে নেমে যাওয়া একই কথা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে যে দলটা খেলেছে, তাদের দিকে চোখ ফেরানো যাক। সাইফ হাসান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করেছেন ৫০ স্ট্রাইক রেটে, যা রীতিমতো প্রস্তর যুগের ব্যাটিং।
ওয়ানডাউনে খেলা সৌম্য সরকারের ৮৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে গড় ৩১ ও স্ট্রাইক রেট ৯৩। চারে নামা নাজমুল হোসেন শান্তর গড় প্রায় ৩২ আর স্ট্রাইক রেট প্রায় ৭৭। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়েরও গড় ৩৭ ও স্ট্রাইক রেট ৭৭। অর্থাৎ বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট ৪০০ ছাড়ানো ইনিংস খেলার জন্য যে হারে রান করা প্রয়োজন, তার অর্ধেক। বাংলাদেশ যে ২০০ করতেই খাবি খাবে, সেটা তো সংখ্যাতেই স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যারি ব্রুক চারে নেমে ২০২ রানের ইনিংস খেলেছেন ১১৬ বলে, উইল জ্যাকস ৬৬ রান করেছেন ৩০ বলে, অর্থাৎ একজন ১৭৫ ও আরেকজন ২২০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা ও জানিথ লিয়ানাগে দুজনেই প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। বাংলাদেশ দলে ১০০ স্ট্রাইক রেট অর্থাৎ বলপ্রতি এক রান করে নেওয়ার মতো ব্যাটারই যে দুর্লভ! তাই এখনো ৩৫০ রানের গণ্ডিই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।



