বাংলাদেশকেই অনুসরণ করতে পারে অস্ট্রেলিয়া!

সংগৃহীত ছবি
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই জয় নিয়ে চলছে কাটাঁছেড়া। তাতে বাংলাদেশ অন্তত ৫টি দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ‘সিডিনি মর্নিং হেরাল্ড’ তুলে ধরেছে সেগুলোই। এমনকি তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দৈনিকটি।
১ টপ অর্ডার ব্যাটিং
বাংলাদেশের সুশৃঙ্খল বোলিং আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা কোনো পথই খুঁজে পাননি। ওয়েদারাল্ডের ক্রিজে অতিরিক্ত নড়াচড়া, কারিগরি পরিবর্তন ও নার্ভাসনেস ছিল চোখে কাঁটা দেওয়ার মত। ম্যাকাইয়ে তার জায়গায় আনা হয়েছে ম্যাট রেনশকে।
মার্নাস লাবুশেনকে গত এক বছরে একবার বাদ দেওয়া এবং আবার ফিরিয়ে আনা হলেও সেরা ফর্ম খুঁজে পাননি তিনি। ট্রাভিস হেডের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও প্রশ্ন আছে। ম্যাথু হেইডেন-রেনশ ও স্যাম কনস্টাসকে ওপেনিংয়ে এনে হেডকে তিন নম্বরে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
আর কামিন্সও এটিকে ধারাবাহিক সমস্যা হিসেবেই মনে করছেন,‘প্রতিটি অস্ট্রেলীয় টেস্টেই যেকোনো খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া যায়, কারণ এটি কোনো বিশ্বকাপের স্কোয়াড নয়। প্রস্তুত থাকা অনেক খেলোয়াড়ই আমাদের হাতে আছে।’
ফক্স ক্রিকেটে অ্যালিসা হিলি বলছিলেন,‘মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে কিছুটা খাটো করে দেখেছিল। সত্যি বলতে, পুরো অস্ট্রেলিয়াই হয়তো তা-ই করেছিল। এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা,যা তাদের জন্য দরকারও ছিল।’
২. নাথান লায়ন
হ্যামস্ট্রিং অস্ত্রোপচারের পর প্রথম ম্যাচে ফিরেই ৩৮ বছর বয়সী লায়ন ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। বাংলাদেশের স্পিনারদের তুলনায় তিনি মোটেও প্রভাব ফেলতে পারেননি। একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচও হাতছাড়া করেন। আগামী বছর ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়ার জন্য লায়নের অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু স্কট বোল্যান্ড কিংবা তরুণ বাঁহাতি স্পিনার ম্যাট কুনেম্যানের বদলে তিনি একাদশে সরাসরি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বাতাসে বল সুইং করিয়ে ব্যাটারদের পরাস্ত করার পুরনো দক্ষতা লায়ন কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের বিপক্ষে।
৩. ঘরোয়া উইকেটের মান
ডারউইনের দারুণ উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে ছিলেন। কিন্তু শেফিল্ড শিল্ডে ঘাসযুক্ত উইকেট তৈরি করে সেখানে ফাস্ট বোলারদের জন্য কাজ সহজ আর ব্যাটারদের জন্য জীবন কঠিন করে তোলা হয়।
এ নিয়ে ব্রিসবেনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একটি সম্মেলনে হেড বলেছিলেন, বাইরে বসে সহজেই বলা যায় ব্যাট ও বলের মধ্যে আমরা একটা চমৎকার ভারসাম্য চাই। কিন্তু দল পরিচালনা করা বোর্ডগুলোর কাছে জানতে চাইলে বলবে তারা শিল্ড জিততে চায়। কন্ডিশন কেমন তা নিয়ে তারা ভাবে না, তারা কেবল ফল ও জয় চায়।’
৪. প্রতিভা
অস্ট্রেলিয়া দলের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দল নামানোর অন্যতম বড় কারণ হলো উদীয়মান তরুণ প্রতিভার ওপর নির্বাচকদের আস্থার অভাব। পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, বর্তমানে এর চেয়ে ভালো বিকল্প কেউ নেই। বাংলাদেশের ২৫ বছর বয়সী তানজিদ হাসান (প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে গড় ৩৯) এবং ২৬ বছর বয়সী হাসান মাহমুদ (বোলিং গড় ২৮) যেভাবে তাদের সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন, সেটাকে অনুসরণ করতে বলেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
৫. উত্তরসূরি
আগামী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রচুর টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। তাই ক্লান্তি বা অন্য কোনো কারণে বর্তমান কাঠামোর পরিবর্তন হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত, আর কামিন্স কতদিন অধিনায়ক থাকবেন তা নিশ্চিত নয়। ম্যাকডোনাল্ডের জায়গায় রায়ান হ্যারিস, অ্যাডাম ভোজেস বা টিম পেইনকে আনা হয়তো সহজ হবে। তবে কামিন্সের ব্যাকআপ হিসেবে এখনও ৩৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্মিথ রয়েছেন, যা চিন্তার কারণ। কেননা স্মিথের ক্যারিয়ার গত কয়েক বছর ধরে কেবল নির্দিষ্ট সিরিজ ধরে এগিয়েছে।






