ব্যাটারদের দায় দেখছেন না
উইকেট টস আর বোলিংকে দুষলেন লিটন

নিজেদের দায় দেখছেন না লিটন দাস
১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টসে হেরে বাংলাদেশ তুলতে পারল সাত উইকেটে ১১১ রান। অন্যরা যখন ব্যর্থ, উল্টো স্রোতে দাঁড়িয়ে তাওহিদ হৃদয় একাই করলেন ২৫ বলে ৪২ রান। পাকিস্তানি বোলারদের ১৫ ওয়াইডের বদান্যতায় সংগ্রহটা একশ পেরুনোর পর বিশ্বাস ছিল পাকিস্তানের আনকোরা ব্যাটারদের বেঁধে রাখা যাবে। সে পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ। তবে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার মোস্তাফিজুর রহমানের ২ ওভারে ৪১ রান সব আশা গুড়িয়ে দেয়। পাকিস্তান ৯ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছে যায়।
বৃহস্পতিবার করোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য শেষ হয়ে যাওয়ার পর অধিনায়ক লিটন দাস ব্যর্থতার বেশ কিছু অযুহাত সামনে টেনে আনলেন। কার্টেল ওভারে যে গতিতে রান তোলা প্রয়োজন, সেটা করতে না পারার পরও নিজেদের ব্যর্থতা দেখছেন না ২ রান করে উইকেট বিলিয়ে আসা লিটন। বরং অজানা উইকেট, টস ভাগ্য আর বোলিংকে দুষলেন তিনি।
প্রথম ওভারে ১৮ রান খরচার পরও মোস্তাফিজে আস্থা রাখা নিয়ে প্রশ্নে লিটন নিজের ভুল দেখছেন না, ‘দেখেন, ও (মোস্তাফিজ) আমাদের দলের সেরা বোলার অনেক বছর ধরে। ক্রিকেটে এই জিনিসটা হয়। আপনি কখনো একই পথে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয় তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা জুতসই ছিল না।’
পাকিস্তানী স্পিনাররা যেখানে কার্যকর হয়েছে, নিজেরাও যখন তিন স্পিনার নিয়ে দল গড়েছে, তখন মোস্তাফিজকে না আনলেও পারতেন কিনা, জানতে চাইলে একটু যেন বিরক্তই হলেন লিটন। এরকম প্রশ্নে তার বাঁকা জবাব, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
মাঝের ওভারগুলোতে বোলিং ভালো না হওয়াকে দায় দিয়ে লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে চান্স বেশি থাকত।’ শুরুতেই তিন উইকেট পতনের ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘শুরুটা মোটেই আদর্শ বলবো না। তবে আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা। প্লাস আমরা টসে হেরে গেছি। শুরুতে এসেই উইকেটটা বোঝা একটু কঠিন ছিল। ভালো খেলতে পারলে ভালো হতো, তবে এটা খুব সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়েই খুব এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন। আমি হৃদয়কে কৃতিত্ব দিব যে ও আমাদের দলকে কামব্যাক করিয়েছে। মোসাদ্দেক এবং হৃদয়ের পার্টনারশিপটা খুবই ভালো ছিল।’
টানা পাঁচদিন বৃষ্টির কারণে উইকেট ঢাকা ছিল। বুধবার সেই কভার তুলে ফেলা হলেও সেখানে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই টসে হেরে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। লিটন বড় সংগ্রহ না পাওয়ার জন্য এটাকেই বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘উইকেট যখন অনেকদিন কভার আপ থাকবে। তারপর ২০ ওভার উইকেটে খেললে একটা ধারণা আপনি পাবেন। আগে ব্যাট করায় সেই ধারণা আমাদের ছিল না। কারণ শেষ ক’দিন আমরা কোনো গেমও দেখিনি এবং উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগও নেই। একেবারে ধারণা ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি ফার্স্ট কয়েকটা ওভার। এরপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা ধারণা পেয়েছে।’
সেরা সাফল্য ছুঁতে না পারাটা হতাশা অবশ্য লুকাননি লিটন, ‘যখন দেশ ছেড়েছি, বলেছিলাম আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। ওই জায়গাটায় আমরা যেতে পারিনি। তাই হতাশ হওয়া স্বাভাবিক।’
আজ অন্তত একটা পদক নিশ্চিত করার সুযোগটা নষ্ট হলো। শনিবার ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এখনও জানা যায়নি। হতে পারে ভারত অথবা শ্রীলঙ্কা। ব্যাটে-বলে যে দুর্দশার প্রমাণ দিলেন ক্রিকেটাররা, তাতে নারীদের মতো তাদেরও ফিরতে হতে পারে শূণ্যহাতে।



