বিসিবি-বিসিসিআই সম্পর্কের বরফ গলার আশা সাকিবের

বিসিবি-বিসিসিআই সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটে যাবে বলে আশা সাকিবের।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বেও পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে তৈরি হয়েছে সম্পর্কের টানাপড়েন। তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন নির্বাচিত সরকার আসায় এই টানাপড়েন মিটে যাবে বলে মনে করছেন সাকিব আল হাসান।
জুলাই আন্দোলনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিল ভারত। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করে। এতে তৎকালীন বিসিবি প্রধান সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলেরও যে নীরব সম্মতি ছিল, সেটা এরই মধ্যে সবার জানা হয়ে গেছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি মাসেই বুলবুলকে সরিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাকিবের মতে, এই পরিবর্তনগুলো দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বুধবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘আমার মনে হয় পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করবে। দেশে নতুন সরকার এসেছে, তারা ক্রিকেটের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
গত কমিটির অধীনে বিসিবি শক্তভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ নিয়েছিল। পিসিবির মদদেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ২০২৬ বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে পাকিস্তান ঠিকই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল এবং ভারতের বিপক্ষে ম্যাচও খেলেছিল। তামিম ইকবাল বিসিবির প্রধান হওয়ার পর বিসিসিআই থেকে এসেছে শুভেচ্ছাবার্তা।
তামিমের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের সুসম্পর্ক দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক মেরামতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে তামিম নিজেও অংশ নেবেন। তাই সাকিবও বেশ আশাবাদী, ‘শিগগিরই ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হওয়ার কথা। নতুন কমিটি গঠন হলে ভারতের পাশাপাশি অন্য সব বোর্ডের সঙ্গেই ফলপ্রসূ যোগাযোগ ও আলোচনা শুরু হবে। এতে আমাদের ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাবে।’
গত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে বিসিবি এবং বিসিসিআই আবার কবে নাগাদ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা অন্যান্য ক্রিকেটীয় ইস্যুতে একমত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব।




