তাইজুল-মিরাজের জন্যই ৯ বছর লেগেছে নাঈমের!

তাইজুল মিরাজকে ছাপিয়ে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ভালো করেছেন নাঈম। ছবি: মোশারফ হোসেন
টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ২০১৭ সালে। অথচ ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় নয় বছর। এর মধ্যে কেটে গেছে লম্বা সময়, দলে আসা-যাওয়া হয়েছে, একাদশে জায়গা পেতে লড়াই করতে হয়েছে। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনে ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট উইকেট পাওয়ার পর সেই দীর্ঘ অপেক্ষার কারণটাও জানালেন নাঈম হাসান।
নাঈমের ব্যাখ্যায়, বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের উপস্থিতিই তার নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। অধিনায়কদেরও এই দুই অভিজ্ঞ স্পিনারের ওপর বিশ্বাস ছিল বেশি। ফলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি নাঈম।
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘প্রথম হলো, আমি তো অনেকদিন পর ম্যাচ খেলছি। আফগানিস্তানের সাথেও অনেকদিন পর খেলতেছি। তো এক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্যাপ্টেন দলের জন্য যেটা ভালো মনে করে, ওইটাই করে। মিরাজ ভাই আর তাইজুল ভাই, ওদের ওপর বিশ্বাসটা বেশি থাকে। তাই আমি সুযোগ কম পেয়েছি।’
তবে পরিস্থিতি বদলানোর আশা ছাড়ছেন না নাঈম। নিয়মিত সুযোগ মিললে এবং পারফর্ম করতে পারলে অধিনায়কদের আস্থাও তার ওপর বাড়বে বলে বিশ্বাস করেন এই অফ স্পিনার, ‘সামনে যদি এরকম পারফর্ম করতে থাকি, তাহলে আমার ওপরও বিশ্বাসটা আসবে এবং আমাকেও বেশি বল করাবে, ইনশাআল্লাহ।’
৯ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৫০ টেস্ট উইকেট—পরিসংখ্যানটা নাঈমের জন্য হয়তো আরও ভালো হতে পারত। কিন্তু সুযোগ না পাওয়া তো তার হাতে ছিল না। তাই নিজের নিয়ন্ত্রণের জায়গাতেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি, ‘দেখেন, আসলে ওইটা তো আমার হাতে নাই। আমাকে যখন সুযোগ দেয়, আমি চেষ্টা করি আমার ১০০ ভাগ দিতে। আর দলের জন্য যেটা ভালো, ওইটা করার চেষ্টা করছি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টে নাঈমকে তৃতীয় দিন শুরু থেকেই লম্বা স্পেলে বোলিং করিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এমনকি প্রথম দিকে এক-দুই ওভার ভালো না হওয়ার পরও নাঈমকে নির্দিষ্ট জায়গায় বল করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অধিনায়ক।
নাঈম বলেন, ‘ প্রথম দিকে বোলিং এদিক-ওদিক হলো। তখন শান্ত ভাই বলছিলেন, একটা জায়গায় বোলিং কর, তুই সারাদিন বোলিং করবি।’
নাঈমের মতে, ব্যাটাররা আক্রমণ করতে গেলে ভুল করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই দলের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব, ‘ওরা অ্যাটাক করলে চান্স তৈরি হবে। চান্সগুলা যদি নিতে পারি, আমাদের জন্য ভালো হবে।’
ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট উইকেট পাওয়ার দিনেও তাই নাঈমের চোখ ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের দিকে। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, তখন তার লক্ষ্য একটাই—বোলিংয়ে সুযোগ কাজে লাগানো এবং দলকে জয়ের সম্ভাবনায় ফিরিয়ে আনা, ‘আমরা একটা ভালো টোটাল দাঁড় করাতে পারলে, আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।’



