ইতিহাস
বিশ্বকাপে পাকিস্তান বধের ২৭ বছর

বাংলাদেশের জয়ের আনন্দে দর্শকরা ঢুকে পড়েছিলেন মাঠে। ছবি: ক্রিকইনফো
আজ থেকে ২৭ বছর আগে ১৯৯৯ সালে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম আসরেই ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, সাঈদ আনোয়ারদের ভয়ংকর পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দল। দুই যুগের বেশি সময় পর সেই বুলবুল বোর্ড প্রধান থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। সেটা অন্য প্রসঙ্গ, তবে ২৭ বছর আগের সেই পাকিস্তান বধ বাংলাদেশের ক্রিকেটকেই বদলে দিয়েছিল।
সেই আসরে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারানোর পর নর্দাম্পটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬২ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৩১ মে নর্দাম্পটনে সেই জয়ে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছিলেন আকরাম খান আর ম্যাচসেরা সুজন খেলেছিলেন ৩৪ বলে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। এছাড়া ওপেনিংয়ে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ৩৯ রানের ইনিংস উপহার দেন। এই পুঁজি যে পাকিস্তানকে হারানোর জন্য যথেষ্ট হবে, তা কে জানত? বাংলাদেশ এখন যেমন বলেকয়ে পাকিস্তানকে হারায়, দুই যুগ আগে পরিস্থিতিটা তেমন ছিল না। তখন সবেমাত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোচ্ছে দেশের ক্রিকেট। প্রথম বিশ্বকাপেই বিশ্বকে জানান দেওয়ার একটা বিষয় ছিল। সেই কাজটাই করেছিল টাইগাররা। বোলিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩১ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। সেই তিনটি উইকেট আবার শহিদ আফ্রিদি (২), ইনজামাম উল হক (৭) এবং সেলিম মালিকের (৫)।
ব্যাস, এতেই পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ৪৪.৩ ওভারে মাত্র ১৬১ রানে অল-আউট হয়ে যায় ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। মোহাম্মদ রফিক, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, নাঈমুর রহমান দুর্জয়রা দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি একটি করে উইকেটও নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সেই জয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় তোলপাড় পড়ে যায়। পরের বছরই বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায়। তবে এই ২৭ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যতটা এগোনোর কথা ছিল, ততটা এগোয়নি। তবে ক্রিকেট ঘিরে আজকের এত হইচইয়ের গোড়াপত্তন ঘটেছিল সেই নব্বইয়ের দশকেই। আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন, খালেদ মাহমুদরাই ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর সুপারস্টার।







