উদীয়মানদের আসরে বুড়ো খোকারা

আসরের নাম রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ, আগে যেটা ছিল ইমার্জিং এশিয়া কাপ। মূল উদ্দেশ্য তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের কাছাকাছি একটা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া। তবে প্রতিবারের মতোই এ আসরে বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে অভিজ্ঞতার ভারে অস্তাচলে পৌঁছে যাওয়া ক্রিকেটারদের! আগে সৌম্য সরকারকে পাঠানো হয়েছে, এবার সাব্বির রহমান ও ইরফান শুক্কুর যাচ্ছেন উদীয়মানদের আসরে খেলতে। দুজনের বয়স যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৩!
টুর্নামেন্টের নাম বদল হলেও উদীয়মানদের আসরে অস্তাচলে যাওয়া ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতিটা বদলায়নি। ২০১৯ ও ২০২৩, পরপর দুই আসরেই খেলেছেন সৌম্য সরকার। এবার হয়তো চক্ষুলজ্জায় নির্বাচকরা তাকে ডাকেননি। তবে এখনো উদীয়মান হয়ে নাঈম শেখ পঞ্চমবারের মতো খেলছেন এ আসরে! ২০১৩, ২০১৯, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬; নাঈম এখনো উদীয়মানদের দলে। কাগজে-কলমে বয়স ২৭, গত বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েও ভালো কিছু করতে পারেননি। বিপিএলে কোটি টাকার ক্রিকেটার হিসেবে আলোচিত, তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ।
তবে চোখ কপালে তুলে দিয়েছে সাব্বির রহমান ও ইরফান শুক্কুরের সুযোগ পাওয়া। ত্রিশ ছাড়ানো এ দুজন কেন উদীয়মানদের দলে, জানতে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল নির্বাচক নাঈম ইসলামের কাছে। আগামীর সময়কে নাঈম বলেছেন, ‘আমরা আসলে পুরনো কয়েকজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছি। সাব্বির প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সেরা ফর্মে আছে, ইরফান শুক্কুর ঢাকা লিগে ভালো করেছে। জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে আমরা অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজছি, এখান থেকে কাউকে পেলে আমরা তাকে জাতীয় দলে সুযোগ দিয়ে দেখব।’ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরই ‘এ’ দলে কেন রাখা হয়েছে— এ প্রশ্নের উত্তরে নাঈম বলেছেন, ‘ভারতের দলটা দেখেছেন? ওরা তো অভিষেক, তিলক সবাইকে রেখেছে।’
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েছেন নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়রা। তাহলে কালাম সিদ্দিকি অলিনের কী হবে, কদিন আগেই বিসিবি একাদশের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান করেছেন এ ব্যাটসম্যান। ময়মনসিংহের হয়ে জাতীয় লিগে দারুণ করছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তাদের কারোই জায়গা হয়নি উদীয়মানদের আসরে। অথচ আফিফ হোসেন এই আসর খেলতে যাচ্ছেন চতুর্থবারের মতো!



