২০০ রানই পাহাড় হয়ে যায় বাংলাদেশের
- ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে টানা ১৯ ওয়ানডেতে হারিয়েছে বাংলাদেশ
- ২০২২ থেকে এ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা ৭ ওয়ানডের ৫টিই হেরেছে বাংলাদেশ
- ২০২৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ওয়ানডে খেলে ৩টিই হেরেছে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্যটা ২০০ রানের চেয়ে বড় হলেই ওয়ানডেতে আর রান তাড়া করে জিততে পারে না বাংলাদেশ। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মাত্র এক বছরেরও কম সময় বাকি, ৩৫৫ দিন পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশের। তার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের তিনটিতেই হার বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
খেলায় হারজিত থাকবেই, তবে বাংলাদেশকে নিয়ে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হারের ধরন। প্রতিপক্ষ আগে ব্যাট করে ২০০ রানের বেশি করে ফেলা মানেই নিশ্চিত হার, অথচ এই সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে আগে ব্যাটিং করা দলের ৩৫০ রানও অনিরাপদ। গত অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরপর দুটি ওয়ানডেতে, ১৯০ এবং ২৯৩ রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ হেরেছে ৮১ এবং ২০০ রানে। ইনিংসের মাঝপথেই অর্থাৎ ২৭-২৮ ওভারেই বাংলাদেশ অলআউট।
দেশে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে ১৯২ রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে জুনে, নিউজিল্যান্ডেরও তৃতীয় সারির ক্রিকেটারদের বিপক্ষে একটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছিল ১৯৮ রান তাড়া করে। কিন্তু একই দলগুলো যখন আরেকটু বড় লক্ষ্য সামনে রেখেছে; যেমন ২৪৮ (নিউজিল্যান্ড, প্রথম ওয়ানডে এবং জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে), তখন বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার ব্যাটই করতে পারেনি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে লক্ষ্যটা যখন ২৭২, তখনই অনেকটা নিশ্চিত যে, ম্যাচটি বাংলাদেশের পক্ষে জেতা প্রায় অসম্ভব। কারণ নিকট অতীতে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো উদাহরণ এই দলটি গড়তে পারেনি। অথচ কয়েক বছর আগেও একাধিকবার তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে জেতার নজিরও আছে বাংলাদেশের।
এমন অধঃপতনের পেছনে মানসম্মত ব্যাটিং কোচের অভাব কি মূল কারণ, এমন প্রশ্নে তাসকিন আহমেদের উত্তর, ‘কোচিং স্টাফ দেশি বা বিদেশি হোক বেসিক থিওরি একই। বিদেশি কোচ এলেই দুনিয়ার সব উল্টে যাবে তা নয়। দেশি কোচরাও যথেষ্ট ক্যাপেবল, যারা আছেন। তারা নিজেরাও ভালো পর্যায়ে খেলেছেন এবং ভালোভাবে কোচিং করাচ্ছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড টিম হওয়ায় এ জিনিস বেশি চোখে পড়ে। হারলে দেশি কোচদের নিয়ে অনেক কথা হয়, জিতলে আবার প্রশংসা কম হয়। এটা দেশি-বিদেশি কিছু না। অল অ্যাবাউট রেজাল্ট। জিতলেই সব ঠিক।’
তাসকিন আরও বললেন, জিম্বাবুয়ের কাছে হারটা বাস্তবতা বুঝিয়েছে, ‘এটি একটি রিয়্যালিটি চেক হয়েছে। কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে। এটা তো ইন্ডিভিজ্যুয়াল গেম না। দু-একজনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স গোনায় ধরা হয় না, যদি জিততে না পারে। দল হিসেবে উন্নতি করতে হবে। ব্যাটার ও বোলার সবার সমান দায়িত্ব। আশা করছি, স্মার্টলি কামব্যাক করবে ওরা।’ তবে দ্রুতই ফিক্স করতে হবে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’



