সাব্বিরের ফেরা আর মাহমুদউল্লাহ’র শুরু

ছবি: বিসিবি
একটা সময় দুজনেই ছিলেন সতীর্থ। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয়ার সেই স্মরণীয় ওয়ানডেতে, মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরির পর আউট হয়ে মাঠ ছাড়লেন আর সাব্বির রহমান ঢুকলেন পরের ব্যাটসম্যান হিসেবে। তবে প্রায় ১১ বছর পর, আজকের দৃশ্যপটটা একদমই উলটো। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হাই পারফরম্যান্স দলে সুযোগ পাওয়া সাব্বির রহমানের জন্য হয়তো এটাই নিজেকে জাতীয় দলের ধারেকাছে ফিরিয়ে আনার শেষ সুযোগ, যে জায়গাটায় তিনি গত ৪ বছর ধরেই নেই। অন্যদিকে অবসরে চলে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ নতুন ভূমিকা শুরু করেছেন মেন্টর হিসেবে, এই সিরিজে তারও নতুন পথচলার শুরু।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির লক্ষ্যে বাংলাদেশে এসেছে মালয়েশিয়া ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ সফরে তারা খেলবে দুটো সিরিজে ৫টি ম্যাচ, ২ টি-টোয়েন্টি ও ৩ ওয়ানডে। টানা তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স দল বছরের এই সময়টায় অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে টপ এন্ড টি২০ টুর্নামেন্ট খেলতে। অস্ট্রেলিয়া যাবার আগে প্রস্তুতি পরখ করতেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে এইচপি দল, যে দলে আছেন সাব্বির রহমানও। এইচপি দলের প্রধান কোচ সোহেল রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাব্বিরের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন তিনি, ‘ দক্ষতা ও মানসিকতার জায়গায় উন্নতি হয়েছে, তার চেয়ে বড় কথা সাব্বিরের মধ্যে এখন বেশ পরিপক্কতা এসেছে। আগে ও খেলা নিয়ে কীভাবে ভাবত জানি না, তবে বর্তমানে ওর চিন্তা-ভাবনা বেশ পরিণত। আর এই পরিপক্কতা মাঠের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে‘, শুক্রবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বলেছেন এইচপির কোচ। দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফেরা এই ব্যাটারকে নিয়ে সোহেল আরও যোগ করেন, ‘সাব্বিরের এখনও দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ওর ইচ্ছাটাও চমৎকার। সত্যি বলতে, পারফর্ম করে জাতীয় দলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সে এখন বেশ ক্ষুধার্ত (হাঙ্গার)। আমরা কেবল তাকে নিজের সেরাটা দেওয়ার কাজে সাহায্য করে যাচ্ছি।‘ বিপিএলের সবশেষ মৌসুমেও সাব্বিরের পারফরম্যান্স অত্যন্ত খারাপ, ১০ ম্যাচে ৯ ইনিংসে করেছেন ১৩৪ রান আর সর্বোচ্চ ২৫*। তবুও অতীতের সুগন্ধই তাকে নিয়ে এসেছে এইচপিতে, নির্বাচকরা দেখতে চাইছেন সাব্বিরের মাঝে পুরানো ঝলকের খানিকটা অবশিষ্ট আছে কি না। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ’র মেন্টর হওয়াটাকেও সাধুবাদ জানিয়ে সোহেল বলেছেন, ‘রিয়াদ প্রথম সিরিজে এসে চমৎকার কাজ করছেন। ক্রিকেটারদের সাথে তাঁর যোগাযোগ) খুবই দারুণ। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তিনি সবার সাথে শেয়ার করছেন—বিশেষ করে ম্যাচের কঠিন ও চাপের পরিস্থিতিতে কীভাবে চিন্তা করা উচিত, তা তরুণদের বুঝিয়ে বলছেন।দেশের ক্রিকেটে রিয়াদ নিজে এক বড় উদাহরণ, তাই ছেলেরা তাঁকে দারুণ বিশ্বাস করে। যখন তাঁর মুখ থেকে পরামর্শ শোনে, তখন ক্রিকেটারদের মধ্যে আস্থা অনেক বেড়ে যায়। এটি দলের ভেতরে খুব ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।‘




