গোড়াতেই গলদ দেখছেন হাবিবুল

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সমস্যা টপ অর্ডারেই। ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফেরা দলটা সম্পর্কে এমনটাই বলেছেন প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের হাবিবুল জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিতেই ঢাকা টেস্টের দলে রাখা হয়নি সৌম্য সরকার ও খালেদ আহমেদকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলে তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম ছাড়া আর কোনো ওপেনারকে রাখা হয়নি। সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে দুজনের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হওয়ায় ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদের ওপরই আস্থা রাখছেন নির্বাচকরা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তৃতীয় ওপেনার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই জায়গার জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচক কমিটি।
শুক্রবার বসুন্ধরায় সাংবাদিকদের বাশার বললেন, ‘বাদ পড়ার একটা বড় কারণ আমাদের এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলছে। এখানে আমাদের একাদশে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। আমাদের যে ওপেনিং জুটি আছে, তারাই হয়তো খেলবেন। আমরা চাই, ও প্রথম শ্রেণির ম্যাচটা খেলুক।’
শুধু সৌম্য নন, তৃতীয় ওপেনার হিসেবে বিবেচনায় থাকা অন্য ব্যাটারদেরও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দিতে চায় নির্বাচকরা। বাশার বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা দল দেব, সেখানে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে কেউ না কেউ যাবেন। সেটা কে হয়, তা আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা চাই, যাদের তৃতীয় ওপেনার হিসেবে বিবেচনা করছি, তারা সবাই প্রথম শ্রেণির ম্যাচটা খেলুক। এজন্য এখানে কাউকে রাখা হয়নি।’
এদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সামগ্রিক দুর্বলতা নিয়েও কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক। তার মতে, মূল সমস্যা টপঅর্ডারে। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই দুই-তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেললে পুরো ইনিংস চাপের মধ্যে পড়ে যায়। ভালো ওপেনিং জুটি হলে বাংলাদেশ ২৬০, ২৭০ কিংবা ২৮০ রান পর্যন্ত করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়েও অতি মাত্রায় চিন্তিত নন বাশার। ত্রিদেশীয় ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে ঘরের মাঠে টানা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উদাহরণ টেনেছেন এই নির্বাচক। তবে সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থ হওয়া নুরুল হাসান সোহানের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে দলে ফেরা ইয়াসির আলী রাব্বিকে ভবিষ্যতে ওয়ানডেতেও বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
ঢাকা টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল
নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম



