ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের

লিটন দাস বেশ বিশ্বাসের সঙ্গেই বললেন, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মনে হয়েছে মোস্তাফিজ, তাই (বোলিং) করিয়েছি।’ অথচ অধিনায়কের বিশ্বাস রাখতে ব্যর্থ মোস্তাফিজ। পাকিস্তানের ইনিংসের দশম ওভারে আক্রমণে এসে দিয়েছেন ২৩ রান। সেখানেই ম্যাচ হেরে বসে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়ান গেমস সেমিফাইনালের লড়াইয়ে মাঠ ভেজা থাকায় ওভার কমে ম্যাচ হয় ১৩ ওভারের। তাতে অাগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ ওভার পর্যন্ত পাকিস্তানের রান ছিল ৪ উইকেটে ৭৬। মোস্তাফিজের দশম ওভারে শেষ ৫ বলে একটি ৬ ও টানা চারটি বাউন্ডারি মেরেছেন আবদুল সামাদ। এতে পরের তিন ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য আর ১৩ রানের দরকার হয়।
এখন পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে একটাই পদক নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। উশুতে ব্রোঞ্জ। এরপর সবচেয়ে বেশি ক্রিকেট নিয়েই আশা ছিল কিছু পাওয়ার। অথচ সেখানেই সবচেয়ে বড় হতাশা হজম করতে হলো। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে পাকিস্তানের কাছে ৯ উইকেটে সেমিফাইনাল হেরে ফাইনালে পা রাখা হলো না লিটনদের।
গেমসের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন লিটন। ফাইনালে উঠলে ভারতের সঙ্গে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ভারত শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ছেলেখেলা করে ফাইনালে উঠলেও বাংলাদেশ ব্যর্থ। টানা কয়েক দিন বৃষ্টিতে ভেজা মাঠে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তোলে। এদিকে ৭ উইকেটে ১৬৯ রান তোলা ভারতের কাছে মাত্র ৪৫ রানে অলআউট হয়ে ১২৪ রানে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। ব্রোঞ্জপদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ।
বোলিং করার তো অনেকেই ছিল। অামার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজকে মনে হয়েছে -লিটন দাস
বাংলাদেশের ম্যাচ হার দুই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টের কারণে। মোস্তাফিজ ও নাসুম আহমেদ দুজনে পাঁচ ওভারে দিয়েছেন ৭৪ রান। মোস্তাফিজ দুই ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন, এ ছাড়া নাসুম তিন ওভারে ৩৩ রানে নেন ১ উইকেট। পাকিস্তানের আবদুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ ও হাসান নাওয়াজ ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। বোলিংয়ের মতো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও হয়েছে ভরাডুবি। তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২, সাইফ হাসানের ১৭ বলে ১৯ ও মোসাদ্দেকের ১৬ বলে ১১ রান ছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে রান নেই আর কারও।
মোস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারটিতে ২৩ রান এসেছিল। তার আগেই পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল করতে এসে ১৮ রান দিয়েছিলেন এই পেসার। তবুও মোস্তাফিজকেই কেন আরও এক ওভার দেওয়া হলো— এমন প্রশ্ন উঠলে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সামনে লিটনের জবাব ছিল এমন, ‘বোলিং করার তো অনেকেই ছিল। অামার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজকে মনে হয়েছে, তাই করিয়েছি। যদি কখনো আপনার কাছে অন্য কাউকে বেস্ট অপশন মনে হবে তখন আপনি তাকে করাবেন।’
শুধু তাই নয়, চেষ্টা করা ছাড়া বাংলাদেশের উপায় যে নেই, তাও স্বীকার করেছেন লিটন। ২০১০ সালে প্রথমবার স্বর্ণপদক জয়ের পর আর এ উচ্চতায় উঠতে পারছে না বাংলাদেশ। ১৫ বছরের বেশি সময় পরও আর সেই সাফল্য না পাওয়া লিটনের কাছে মোটেও আদর্শ নয়, ‘এটা আদর্শ নয়। আমাদের এতদিনে স্বর্ণপদক জেতা উচিত ছিল। কিন্তু চেষ্টা তো করেই যাব। আমরা পারছি না, পরে যে দল আসবে তারা চেষ্টা করবে। তবে অনেক সময় অনেক কিছু না পাওয়ার মধ্যে ফল অন্যরকম হয়ে যায়।’



