শেষ বিকালে অসহায় আত্মসমর্পণ

ছবি: আগামীর সময়
ব্রেন্ডন কিংয়ের ব্যাটে লেগে ছুটে যাওয়া বলটা যখন বাউন্ডারির দড়ি অতিক্রম করল, সেই মুহূর্তটা আসলে আইসিউতে ভর্তি রোগীর লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার মতো। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ যে হারছে, সেটা নিশ্চিত হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা আর শেষকৃত্য। সেটাও হলো। অনেক ব্যাখা আর অজুহাতে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ব্যাটিং আর বোলিং ভালো হয়নি। টেস্ট ম্যাচের ফল যখন চতুর্থ দিনেই ৮ উইকেটে হার, তখন আর কোনটা খারাপ হয়েছে সেটা আলাদাভাবে বলার দরকার পড়ে না।
যে ২২ গজে দ্বিতীয় দিনে ১১ উইকেট পড়েছে, তৃতীয় দিনে পড়েছে ১২ উইকেট, সেই ২২ গজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে অনায়াসে ব্যাটিং করল। ১৭০ রান তাড়া করল অবলীলায়। স্পিনাররা কোনো উইকেটই পেলেন না। ব্রেন্ডন কিং খেললেন ১১৫ বলে ৮১* রানের অনবদ্য এক ইনিংস। স্পিনারদের স্টেপ আউট করে খেলেছেন, বাউন্ডারি মেরেছেন ১০টা আর একখানা ছয়। শরিফুল ইসলাম যখন হাফ সেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে থাকা জন ক্যাম্পবেলকে আউট করলেন, ম্যাচ তার অনেক আগেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশের হাত থেকে।
তবুও আশা জাগে গ্যালারিতে। দলীয় সংগ্রহে আরও ৮ রান যোগ করতেই তেজ নারায়ণ চন্দরপলকে আউট করেন হাসান মাহমুদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিততে দরকার ৫০ রান, বাংলাদেশের ৮ উইকেট। ৮টা ম্যাজিকাল ডেলিভারি। কিন্তু সেই রকম ৮টা ডেলিভারি পরের ৬০টা ডেলিভারিতে এলো না। ৩৫.১ ওভারে ১৭০ রান করে ঢাকা টেস্টটা জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যারা প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে ছিল ২৭ রানে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি যে বোলারদের দেখা যায়, সেটা হচ্ছে বামহাতি স্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বামহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে যে তাতে নিজেকেই পড়তে হয়, এটাই বোধ হয় ঢাকা টেস্টের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।



