লিটনের খ্যাতি মুখে মুখে

সংগৃহীত ছবি
১১৬ রানে ৬ উইকেট পড়ার পরও ২৭৮-এ পৌঁছে যাওয়া। সিলেটে প্রথম ইনিংসে তিনশর কাছাকাছি রান করা সম্ভব হয় লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে। লিটনের ব্যাট চওড়া না হলে কী যে হতো! তাই ম্যাচ জয় বা আরও বড় করে বললে সিরিজ জয় নিশ্চিতের পর নাজমুল-মুশফিকের মুখে মুখে ফিরছে লিটনের ইনিংসটির কথা।
নাজমুল হোসেন যেন সংবাদ সম্মেলনে অপেক্ষায় থাকেন এই সম্পর্কিত প্রশ্ন শোনার। মুশফিকুর রহিম সিরিজ সেরা হয়েও নিজেকে আড়াল করে দেন লিটনের সেঞ্চুরিতে। সত্যিই! লিটন বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে, তাইজুল সঙ্গ না দিলে সিরিজ জয়ের ইতিহাস লেখাই হতো না বাংলাদেশের।
লিটনের সেঞ্চুরির প্রশ্ন উঠতেই নাজমুল বুঝিয়ে দিলেন অনুকরণীয় পারফরম্যান্স আসলে কী, ‘আশা করেছিলাম এই প্রশ্ন আরও আগে আসবে। আসলে দলের জন্য খেলা যাকে বলে, লিটনের ইনিংসই তার উদাহরণ। আমার চোখে দেখা তার অন্যতম সেরা ইনিংস। তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুলদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। ওই জায়গায় লিটন ভাই যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন, এটিই আসলে একটা বড় দল হওয়ার লক্ষণ।’
২৫৩ রান সিরিজ সেরার পুরস্কার এনে দিয়েছে মুশফিককে। নিজের অর্জনে মিস্টার ডিপেনডেবল অবশ্যই খুশি। তবে খুশির মাত্রা বেড়েছে লিটনের ওই সেঞ্চুরি দেখে, ‘নিজের অর্জনে ভালো লাগছে। কিন্তু সন্তুষ্টি বেশি এই ছেলেদের জন্য। তারা গত দু-তিন বছর টেস্ট ফরম্যাটে দারুণ করছে। উন্নতির ছাপ রেখেছে। বিশেষ করে এই টেস্টে লিটনের ইনিংসটা আমাদের উন্নতির প্রমাণ। ওই সেঞ্চুরি আমাদের ম্যাচে রেখেছিল, ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল, আমরা তখন শুধু তার জন্য খেলছিলাম। যেন তার এই কষ্ট বৃথা না যায়।’ লিটন নিজেও কি খুশি না? অবশ্যই। ম্যাচ শেষে ‘ম্যাচসেরার’ পুরস্কার হাতে নিয়ে তাই নিজের সেরা সেঞ্চুরির তকমা দিলেন সিলেটের শতককে, ‘হতে পারে এটিই আমার সেরা সেঞ্চুরি। কারণ, শেষের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাট করা সহজ নয়। সব ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে থাকে, রান তোলা কষ্টের। আবার প্রথম দিন আউটফিল্ডও স্লো ছিল। সব মিলিয়ে সেঞ্চুরি পেয়ে আমার নিজেরই ভালো লেগেছে।’
গতবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম হয়ে শেষ করেছিল বাংলাদেশ। এবার নাজমুলের লক্ষ্য পাঁচে থাকা। তাদের জন্য খুশির খবর, পাকিস্তানকে হারিয়ে চার ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট ও ৫৮.৩৩ পারফরম্যান্স শতাংশে এখনই পাঁচে উঠেছে বাংলাদেশ।
সামনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অ্যাওয়ে সিরিজ। এই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। তবুও চক্রের শুরুতেই সাফল্য পাওয়া তৃপ্তি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পুঁজি হবে সামনের দুটি কঠিন সিরিজে।




