আশা জাগিয়েও পারল না বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
ব্যাটাররা সবাই ভালো খেললেন। রান তুললেন দেড়শ স্ট্রাইক রেটের ওপরে। তবুও শেষরক্ষা হলো না। মাত্র ৭ রান দূরে থাকায় হাতছাড়া হলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অল্পের জন্য জয় ধরা দেয়নি। ব্যাটিংয়ে আরও একটু আগ্রাসী না হওয়ায় খেসারত দিল বাংলাদেশ।
ইনিংসের শুরু থেকেই তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ভালো জবাব দিচ্ছিলেন। তামিম ১৫ বলে ৩০ রানে ফেরার পর সাইফের সাবধানী ব্যাটিং পিছিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ৩৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১২৭ স্ট্রাইক রেটে ৪২ করেন সাইফ। মাঝের ওভারে পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয় সমান গতিতে রান তুলেও দলকে জয় এনে দিতে ব্যর্থ।
ইমন ২২ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৩৬ রান করেন। হৃদয় সমান বল খেলে ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৫ রান করেন। শেষদিকে আবদুল গাফফার সাকলাইন ১১ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে টানা দুই ম্যাচ হেরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হার নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জবাব
দুইশো ছুঁইছুঁই টার্গেট। টি-টোয়েন্টিতে এমন লক্ষ্যে ধরে খেলার সুযোগ নেই। বাংলাদেশও খেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অজিদের ১৯৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশের। ৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৭৭ রান উঠেছে বোর্ডে।
ঝড়ো শুরু এনে দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ১৫ বলে ১ ছক্কা ও ৪ চারে ৩০ রান তার। অবশ্য দুর্দান্ত শুরু পাওয়া ইনিংসটি বড় করা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসের পারফরমার রেনশের বলে আউট হন ৩০ রানেই। অন্যপ্রান্তে থাকা সাইফ হাসান ২০ বলে ২৭ রান করেছেন দুটি করে ছক্কা ও চারে। মাত্র ৯ বলে ১৫ রান করে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। জয়ের জন্য ওভারপ্রতি প্রায় ১১ রান করে চাই বাংলাদেশের।
রেনশের ব্যাটে বড় সংগ্রহ অজিদের
ম্যাট রেনশের ২৯ বলে ফিফটি এবং সেই ইনিংসে সেঞ্চুরির দিকে টেনে নেওয়া। তার ব্যাটেই শুরুর বিপদ কাটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তাদের।
রেনশের অবশ্য সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়নি। ৫২ বলে ৫ ছক্কা ও ৪ চারে ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। চতুর্থ উইকেটে ২৬ বলে ৪৫ রান করা টিম ডেভিডকে নিয়ে ৯৭ রানের জুটি গড়েন। ওই জুটিতেই বড় স্কোরের পথ পায় সফরকারীরা। পরে শেষ চার ওভারে জোয়েল ডেভিডসকে (১৩) নিয়ে আরও ৪২ রানের জুটি গড়েন রেনশ। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম ২টি ও সাকলাইন, মোস্তাফিজ এবং নাহিদ রানা দুটি করে উইকেট নেন।
বড় জুটি ভাঙল অস্ট্রেলিয়ার
শুরুর বিপদ দারুণভাবে কাটিয়ে উঠছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের পাল্টা আক্রমণে বড় স্কোরে চাপা পড়ার ভয়ে আছে বাংলাদেশ। ১৫ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছে।
দারুণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। দুজনে গড়েছেন ৯৭ রানের জুটি। আবদুল গাফফার সাকলাইনের বলে তানজিদের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ডেভিড। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেট পেলেন সাকলাইন। ২৬ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৪৫ রান ডেভিডের।
আগে ব্যাট করতে নেমে অজিরা ইনিংসের শুরুতে বিপদে পড়ে। পাওয়ার প্লে’তে তাদের ৪৪ রানে ৩ পড়ে যায়। ওই অবস্থা থেকে পাল্টা আক্রমণে দারুণভাবে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রেনশ ৩৩ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে করেছেন ৫৭ রান।
তিন উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিপদে
আগের ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় স্কোর দেড়শ ও হয়নি। এবার সেই অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা সফরকারীদের। পাওয়ার প্লে’তেই হারাতে হয়েছে তিন উইকেট। ৮ ওভার শেষে দলের রান ৬২।
চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। অজি স্পিনাররা ইতিহাসে প্রথমবার কোনো জয়ী ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। স্পিনারদের দাপটে বাংলাদেশও এবার শুরু করে। নাসুম আহমেদ জস ইংলিশকে ফেরান ১১ রানে।
এরপর অবশ্য মোস্তাফিজুর রহমান ও নহিদ রানার সাফল্যে পাওয়ার প্লেতেই অজিদের তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। মোস্তাফিজ ১৯ বলে ২০ রান করা অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাইফ হাসানের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন। একই ফিল্ডার নাহিদ রানার বলে ক্যাচ ধরেন শেষ ওয়ানডেতে অজিদের সেঞ্চুরিয়ার কুপার কনোলির (১)।
ম্যাট রেনশর ১৫ বলে ১৭ ও টিম ডেভিডের ৬ বলে ১০ রানে শুরুর বিপদ সামাল দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে ১-০ তে পিছিয়ে বাংলাদেশ।






