খেলোয়াড় ও ম্যানেজার বাছাইয়ের ট্রেনিং ক্যাম্প!

কিংস অ্যারেনায় চলছে জাতীয় ফুটবল দলের ট্রেনিং ক্যাম্প। ছবি: বাফুফে
থমাস ডুলির ট্রেনিং কেমন? এক ফুটবলার বলেছেন, ভালো। কোড অব কন্ডাক্টের বিধিনিষেধের কারণে নাম প্রকাশ না করেই বলেছেন, ‘কোচ রাগী নয়, তবে সবার সম্পর্কে তার আলাদা আলাদা ধারণা তৈরি হচ্ছে। কে বল প্লেয়ার, কার শক্তি কেমন, এসবই তিনি বুঝতে চাইছেন।’
কিন্তু দুবেলা ট্রেনিংয়ে তো অনেক ধকল যায়? তার জবাব, ‘না, অত পরিশ্রম হয় না। আসিয়ানের টুর্নামেন্টের আগে তৈরি হতে হলে একটু পরিশ্রম করতেই হবে।’
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফিফা-আসিয়ান কাপ শুরু হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। আমেরিকান কোচের জন্য যেমন বড় পরীক্ষা, তেমনি বাংলাদেশ দলকেও দেখাতে হবে এ টুর্নামেন্ট খেলার যোগ্য তারা। খেলার মান তাদের বেড়েছে আগের চেয়ে। তাই থমাস ডুলির অধীনে দুবেলা ট্রেনিংয়ে তাদের কার্পণ্য নেই।
দুবেলা প্রায় দুই ঘণ্টা করে। এর মধ্যে নানারকম সেশন হয় এবং সেগুলো করছেন খুব মনোযোগ দিয়ে। প্রত্যেকে কোচের সামনে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে চাইছেন। কারণ থমাস ডুলির কাছে নামের ভার বলে কিছু নেই। অতীতে খুব ভালো খেলেছেন বা গোল করেছেন— এমন তথ্যে বিশ্বাস রাখতে চান না এই কোচ। ট্রেনিংয়ে নিজের চোখে দেখার পরই জাতীয় দলে সুযোগ দিতে চান ফুটবলারদের। তাই সামর্থ্য প্রমাণে মরিয়া তারা। বিকাল ৪টার কাঠফাটা রোদের মধ্যেও খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে লড়ছেন, বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছেন নিজের। অথচ মৌসুম শেষ হওয়ার এত পরে রোদের মধ্যে ফুটবলারদের হাঁপিয়ে ওঠার কথা। সেখানে তাদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ নেই এতটুকু! বাফুফেরই একজন মজা করে বলেছেন, ‘এটা খেপের ম্যাজিক ধরতে পারেন।’ হয়তোবা! সবকিছুর ভালোমন্দ দুটো দিকই আছে।
খেপ খেলা খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকির হলেও আপাতত কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে জাতীয় দলের ট্রেনিংয়ের জন্য। খেলোয়াড়দের এ চেষ্টা দেখে কোচও নাকি সন্তুষ্ট। কিন্তু বেজায় অসন্তুষ্ট জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা আমের খান, ‘ছেলেরা ভালো ট্রেনিং করছে, তাতে কোচও খুশি। কিন্তু আমি বেশ বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছি। ট্রেনিং চলাকালে কয়েকজন গিয়ে হাজির হয়, যাদের সাধারণত দেখা যায় না। আবার সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানারকমের কথা। বাফুফে সভাপতিকে বলেছি, আমারও তো সম্মান আছে।’
গতকাল ট্রেনিংয়ে হাজির হয়েছিলেন বাফুফে সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু, ইমতিয়াজ আহমেদ সবুজ, সাখাওয়াত হোসেন শাহীন। তাদের চোখও নাকি আমের খানের ম্যানেজারশিপের দিকে। প্রত্যেকেই লড়ছেন নিজের মতো করে। ফুটবলারদের পাশাপাশি ম্যানেজার পদের লড়াইও চলছে ফুটবল ট্রেনিং ক্যাম্পে!







