থমাস ডুলির দুশ্চিন্তা

থমাস ডুলি
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সামনে তিনটি বিকল্প খোলা রয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত আসিয়ান কাপে খেলার প্রস্তাবটি বেশ লোভনীয়। এ ছাড়া ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন অথবা কিরগিজস্তানে সফর করার সম্ভাবনা নিয়েও ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে ঘরোয়া ফুটবলের অনিশ্চিত সূচি ও ক্লাবগুলোর প্রস্তুতির অভাব জাতীয় দলের হেড কোচ থমাস ডুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আসিয়ান কাপ নিয়ে থমাস ডুলি বেশ আশাবাদী। তিনি মনে করেন, প্রতিবেশী শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলা দলের ভুলগুলো শোধরানোর বড় সুযোগ, ‘তারা (আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ) আমাদের প্রতিবেশী দেশ। শক্তিমত্তায় তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। তাদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শনাক্ত করতে এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারব।’
পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া গিয়ে যদি আমরা সেই ম্যাচগুলোতে শোচনীয়ভাবে হেরে যাই, তবে দলের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে পড়বে— যা হবে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি
তবে পাশাপাশি তিনি ঘরের মাঠের প্রস্তুতির অভাব নিয়ে শঙ্কিত। লিগ শুরু না হওয়ায় খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠের বাইরে। যাকে জাতীয় দলের ভালো প্রস্তুতি অন্তরায় মনে করেন কোচ, ‘এ বিষয়টি আমাদের প্রস্তুতির জন্য মোটেই সহায়ক হচ্ছে না। একটি পেশাদার ক্লাবে প্রাক-মৌসুমে খেলোয়াড়দের ফিটনেস আনতেই প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এর চেয়ে ভালো হতো যদি আমরা ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে পারতাম। ঘরের মাঠে খেললে সাধারণত একটি দলের যে মানসিক আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে, কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য সেটি খুব জরুরি।’
ঘরের মাঠে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুবিধার দিক নিয়েও কথা বলেছেন কোচ। নিজেদের পরিচিত আবহে ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নেওয়া যাবে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে কিরগিজস্তান সফরকে দলের সাফের প্রস্তুতির জন্য খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তিনি, ‘পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া গিয়ে যদি আমরা সেই ম্যাচগুলোয় শোচনীয়ভাবে হেরে যাই, তবে দলের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে পড়বে— যা হবে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি।’
এদিকে, দলবদল নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে আগ্রহের অভাব দেখে চিন্তিত কোচ। ১৯ আগস্ট দলবদল শেষ হবে। অথচ অনেক ক্লাবই এখনো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করেনি। ফিফা উইন্ডোর মাত্র চার সপ্তাহ আগে ফুটবলারদের এই নিষ্ক্রিয়তা জাতীয় দলের কৌশলী অনুশীলনের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে মনে করেন কোচ, ‘খেলোয়াড়রা যদি গত চার বা পাঁচ সপ্তাহ কোনো অনুশীলনের মধ্যেই না থাকে, তবে জাতীয় দলের জন্য পুরো বিষয়টি ভীষণ কঠিন হবে। আমাদের হাতে এখন পর্যাপ্ত সময় নেই। জাতীয় দলে নতুন করে খেলোয়াড়দের ফিট করে তোলার সুযোগ থাকে না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’






