Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
আগামীর সময় বিশেষ লেখা

ছফা-হুমায়ূন বিত্তান্ত

শিবব্রত বর্মন
শিবব্রত বর্মন
agamir somoy
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ২০:৩২
ছফা-হুমায়ূন বিত্তান্ত

লেখক ও চিত্রনাট্যকার শিবব্রত বর্মন

গুণী লেখক আহমদ ছফা কি জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের আবিষ্কর্তা কিংবা পৃষ্ঠপোষক? কথাটা উঠেছে আহমদ ছফার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আলোচনায়।

সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের উন্মেষে ছফার আদৌ যদি কোনো ভূমিকা থেকে থাকে, সেটা আসলে কী ছিল? দেখি, এ নিয়ে যারা আলোচনা করছেন, তাদেরও খুব যে সুনির্দিষ্ট ধারণা আছে, তেমন নয়। সাধারণ্যে এরকম এক আবছা ধারণা চালু আছে যে দূর অতীতে অজ্ঞাতকুলশীল তরুণ লেখক হুমায়ূন আহমেদকে সাহিত্যিক সুধিমহলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আহমদ ছফা। কিংবা তার প্রথম বই প্রকাশে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
শুরুতে আমার মনে হয়েছিল, কথাটা সাহিত্যাঙ্গণে চালু কোনো মিথ হবে হয়ত। কারণ হুমায়ূন আহমেদ যে ধারার বা ধাঁচের লেখক, তাতে তার অনাবিষ্কৃত থাকার সুযোগ কম। পাণ্ডুলিপি বগলদাবা করে হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, এ দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন।

এ বিষয়ে আমি কিছু প্রাথমিক খোঁজখবর শুরু করতেই সাবেক সহকর্মী কাজী তাপস এ ব্যাপারে একটা বেশ নির্ভরযোগ্য তথ্যউৎস দিলেন।

ছফা ও হুমায়ূনের সাহিত্যাকাঙ্ক্ষায় বিস্তর ফারাক ছিল। তবু তরুণ বয়সে তারা যে কাছাকাছি এসেছিলেন, এ তথ্য হুমায়ূন আহমেদ দিয়েছেন বলপয়েন্টসহ তার একাধিক স্মৃতিচারণমূলক রচনায়। হুমায়ূন আহমেদ ছফাকে নিজের ‘মেন্টর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ছফার কোনো রচনায় এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। তারা কাছাকাছি এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সূত্রে। ছফা হুমায়ূনের চেয়ে বয়সে পাঁচ বছরের অগ্রজ ছিলেন। তবু তাদের মধ্যে আড্ডাস্থানীয় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

আহমদ ছফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯৬২ সালে। এর ছয় বছর পর ১৯৬৮ সালে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন হুমায়ূন আহমেদ। ছফা অবশ্য পরে বিভাগ বদল করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নেন এবং ১৯৭০ সালে স্নাতোকত্তর করেন। তারপর আব্দুর রাজ্জাকের অধীনে পিএইচডি করছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ূন আহমেদ থেকেছেন মহসীন হলে ৫৬৪ নম্বর কক্ষে। সেখানেই সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৭০ সালে তিনি নন্দিত নরকে এবং শঙ্খনীল কারাগার নামে দুটি উপন্যাসোপম কাহিনি লেখেন। শোনা যায়, শঙ্খনীল কারাগার আগে লেখা। দুটিই পাণ্ডুলিপি আকারে পড়ে ছিল ছাত্রাবাসের ওই কক্ষে।

আহমদ ছফা থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হস্টেলে। হুমায়ূন, ছফা এবং আনিস সাবেত নামে অপর এক শিক্ষার্থীর বন্ধুত্ব হয়ে যায় এবং এ তিন জন প্রায়শই মধ্যরাতের রাজপথে স্বপ্নাবিষ্ট হেঁটে বেড়াতেন। বলা বাহুল্য, তাদের আলাপের সিংহভাগ জুড়ে থাকত জীবনদর্শন এবং সাহিত্য। হুমায়ূন এ সময় তার উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি ছফাকে পড়ে শুনিয়েছেন কিনা ঠিক বোঝা যায় না। ততদিনে আহমেদ ছফার প্রথম উপন্যাস সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭) বেরিয়ে গেছে এবং বোঝা গেছে ছফার সাহিত্যাকাঙ্ক্ষা নিছক তারুণ্যের কল্পনাবিলাসিতা নয়। তিনি ছাত্রাবস্থাতেই গ্রন্থলেখক।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আহমদ ছফা এবং হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে আবার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। আহমদ ছফা ততদিনে পূর্ণাঙ্গ লেখক। মুক্তিযুদ্ধকালে তার প্রবন্ধের বই জাগ্রত বাংলাদেশ বেরিয়ে গেছে এবং তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ-এ নিয়মিত ক্ষুরধার কলাম লিখছেন, যেগুলো পরে বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস নামে বই আকারে বের হবে। ছফা আগের মতোই ইন্টারন্যাশনাল হস্টেলে থাকছেন। আর হুমায়ূন আহমেদ স্নাতকোত্তর পড়ছেন।

এরকম অবস্থায় নন্দিত নরকে প্রকাশিত হয়। হুমায়ূনের প্রথম বই। স্মৃতিচারণমূলক লেখার সংকলন বলপয়েন্ট-এ হুমায়ূন আহমেদ এ বইয়ের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ১৯৭২ সালে মুখপত্র নামে একটি সংকলনে এটি প্রকাশিত হলে তা পড়ে আহমদ ছফা মুগ্ধ হন। তিনিই এটি বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেন।

অচিরেই নন্দিত নরকে-এর পাণ্ডুলিপি বগলদাবা করে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ছফা হাজির হন ৬৭ প্যারীদাস রোডে প্রকাশনা সংস্থা খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মোসলেম খানের দরবারে। সদ্যস্বাধীন দেশে তখন খান ব্রাদার্স বই প্রকাশে খুব সাহসী আর ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক নীতি নিয়েছে। তারা একঝাঁক তরুণ কবির ডেব্যু বই ছাপছে। এভাবে নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, হুমায়ুন কবির এবং হুমায়ুন আজাদের প্রথম কবিতার বই বের হয় এ প্রকাশনী থেকে।

নন্দিত নরকের পাণ্ডুলিপি নিয়ে ছফার প্রকাশকের দপ্তরে আগমনের ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে বাংলাদেশে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে কিংবদন্তীতুল্য গ্রন্থকীট বদিউদ্দীন নাজিরের বাংলাদেশে গ্রন্থ প্রকাশনা নামক গ্রন্থে। সেখানে খান ব্রাদার্সের প্রকাশক মোসলেম খানের পুত্র ফিরোজ খানের একটি স্মৃতিচারণ তুলে দিয়েছেন বদিউদ্দীন নাজির। সেটি এরকম:

“১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আহমদ ছফা মাসিক ‘মুখপত্র’সহ একজন তরুণে নিয়ে খান ব্রাদার্স-এ আসেন। খান সাহেবকে বলেন, ‘ইনি হুমায়ূন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নন্দিত নরকে নামে একটি অসাধারণ গল্প লিখেছেন আপনি ছাপুন, আমি শরীফ স্যারকে (ড. আহমদ শরীফ) দিয়ে ভূমিকা লিখিয়ে এনে দেব। খান সাহেব গল্পটি পড়ে হুমায়ূন আহমেদকে বলেন, আপনার গল্পটি ভালই হবে, তবে উপন্যাস হিসেবে প্রকাশ করতে হলে কাহিনি আরো বাড়িয়ে বড় করতে হবে। হুমায়ূন আহমেদ কয়েকদিন পরে গল্পটি বড় করে পাণ্ডুলিপি নিয়ে এলে খান ব্রাদার্স থেকে তা প্রকাশিত হয়। শামীম শিকদার এবং মুহম্মদ জাফর ইকবালের আঁকা প্রচ্ছদ মোটেই আকর্ষণীয় ছিল না। তাছাড়া নতুন অখ্যাত লেখক বলে বইটি পাঠক সমাদৃত হচ্ছিল না। যাহোক, ১৯৭২ সাল ছিল আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ। এ উপলক্ষ্যে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তৎকালীন পরিচালক সরদার জয়েনউদ্দিন বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। তিনি বহেড়া তলায় (বর্ধমান হাউসের পিছনে) দেশীয় প্রকাশকদের জন্য স্টলের বরাদ্দ দেন। সেখানে ঢাকার ১০/১২টি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বেশ কিছু দূতাবাসও ঐ মেলায় অংশ নিয়েছিল। তাদের স্টল ছিল পুকুরের পূর্ব পাড়ে এ মেলার সময়কাল ছিল ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্রন্থমেলায় আমাদের ছাপা তরুণ কবিদের বি দেদারসে বিক্রি হলেও নন্দিত নরকে উপন্যাসটি বিক্রি হচ্ছিল না। মাঝে মধ্যে আহমদ ছফা ২/১ জনকে ধরে এনে এক রকম জোর করে গছিয়ে দিচ্ছিলেন। মেলা শেষে একদিন হুমায়ূন আহমেদ খান ব্রাদার্সে এসে খান সাহেবকে বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বইয়ের প্রচ্ছদকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনি কাইয়ুম চৌধুরীকে দিয়ে একটি প্রচ্ছদ করিয়ে নিলে হয়ত পাঠক আগ্রহ নিয়ে কিনবে। তাছাড়া আমি শঙ্খনীল কারাগার নামে আগে একটি উপন্যাস লিখেছিলাম। এটিও প্রকাশ করলে ভাল হয়।’ তখন খান সাহেব শঙ্খনীল কারাগার বইটিও প্রকাশ করেন এবং দুটি বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে দিয়ে আঁকিয়ে নেন। লেখকের ইচ্ছামতে নন্দিত নরকের কাভার ও ইনার পৃষ্ঠা পাল্টিয়ে দ্বিতীয় মুদ্রণ লেখা হয়। এরপর হুমায়ূন আহমেদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নির্বাসন, অন্য দিন, সবাই গেছে বনে, নীল হাতী, চাঁদের আলোয় কয়েক জন যুবক খান ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়। অনেকেই জানেন না নির্বাসন প্রকাশকালে হুমায়ূন আহমেদ ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।”
আহমদ ছফা আবেগপ্রবণ, উদ্দমী মানুষ ছিলেন। বাংলাবাজারের প্রকাশকদের মধ্যে বিশেষ করে খান ব্রাদার্সের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ ছিল। অনেক তরুণের লেখা প্রথম প্রকাশের ব্যাপারে তাকে এরকম উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।

নন্দিত নরকে প্রকাশের সময় আহমদ ছফার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছিল দুই। মাত্র একটি উপন্যাস। ২০০১ সালে ৫৮ বছর বয়সে পরলোক গমনের সময় তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০টির মতো, যার মধ্যে উপন্যাস ৮টি। ওদিকে হুমায়ূন আহমেদ তার ৬৪ বছরের জীবনে শুধু উপন্যাসই লিখেছেন আড়াইশর বেশি।

হুমায়ূন আহমেদ – এঁরা ওই অর্থে সফল লেখক যে লিখে তাঁরা টাকা কামিয়েছেন। টাকা কামানোটাই কি একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি?... হুমায়ূনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁদের অনেকেই তাঁর এই উন্নতি বা অবনতির জন্য অংশত আমাকেই দায়ী করতে চান

সময় যত গড়িয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ ততই জনপ্রিয় হয়েছেন, আর ততই দুই লেখকের মধ্যে যোগাযোগ কমেছে, দূরত্ব বেড়েছে। হুমায়ূনের জনপ্রিয় ধাঁচের লেখালেখি ছফার খুব পছন্দ ছিল না। সেটা তিনি খুব একটা গোপনও করতেন না।

১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে মীজানুর রহমান মীজানের নেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে আহমদ ছফা বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ – এঁরা ওই অর্থে সফল লেখক যে লিখে তাঁরা টাকা কামিয়েছেন। টাকা কামানোটাই কি একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি?... হুমায়ূনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁদের অনেকেই তাঁর এই উন্নতি বা অবনতির জন্য অংশত আমাকেই দায়ী করতে চান। তাঁর প্রথম বই যখন বেরিয়েছিল, আমি সবচাইতে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছি। তখন আমার মনে হয়েছিল হয়ত হুমায়ূনের মধ্যে কালে কালে আমরা চেখভের মতো একজন প্রতিভার সন্ধান পাব। তিনি তো সে পথে গেলেন না। উপর্যুপরি সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরাজয় সব মিলিয়ে এখানে যে চিন্তাহীন অরাজক পরিস্থিতি – হুমায়ূন সেই সময়ের প্রোডাক্ট। অবশ্য হুমায়ূনের ব্যক্তিগত কামালিয়াত এটুকু যে তিনি পাঠকদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন। আমার প্রশ্ন এটা কি স্থান? হুমায়ূনের পরবর্তী রচনা চানাচুরের মতো। খেতে মজা লাগে কিন্তু পেট ভরে না এবং সার পদার্থও বিশেষ নেই।’

এর এক বছর আগে ১৯৯৩ সালে বিপ্লব রহমানকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ছফা বলেন: ‘জনপ্রিয়তার দিক থেকে দেখতে গেলে হুমায়ূন শরৎচন্দ্রের চাইতে বড়। মেরিটের দিক থেকে দেখতে গেলে হুমায়ূন নিমাই ভট্টাচার্য্যের সমান। আর হুমায়ূনের প্রশ্নটা হচ্ছে — হি ইজ রাইটিং ফর বাজার। আমার তো মনে হয় না এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। হুমায়ূন সম্পর্ক বলতে আমার কষ্ট হয়। হি ইজ পার্টলি মাই ক্রিয়েশন। তারপরেও এগুলোকে পুত্রজ্ঞানে দেখাই ভাল।’

আমার জানতে কৌতূহল হয়, উষাকালের এ পৃষ্ঠপোষক ও বড়ভাইয়ের তরফে এ ধরনের তিক্ত সমালোচনা হুমায়ূন আহমেদ কীভাবে গ্রহণ করতেন? ছফার সমালোচনার জবাব হুমায়ূনকে আমি কোথাও দিতে দেখিনি। তবে একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস যে ছিল, তা লুকাতে পারেননি। বল পয়েন্ট-এর এক লেখায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হুমায়ূন লিখেছেন: ‘ছফা ভাই কাঁধে একটা টিয়া পাখি নিয়ে ঘুরতে লাগলেন। তিনি নাকি টিয়া পাখির অনেক কথা বুঝতে পারেন। একটা পর্যায়ে আমার ক্ষীণ সন্দেহ হওয়া শুরু হলো যে, তিনি যে জগতে বাস করেন তা সম্পূর্ণই তাঁর নিজের। বাস্তব জগৎ থেকে অনেকটা দূরের। তাঁর রিয়েলিটি এবং আমাদের রিয়েলিটি এক নয়। কারো যখন মোহভঙ্গ হয় তখন অতি দ্রুতই হয়। আমি তার বলয় থেকে সরে গেলাম।’

আরেক স্মৃতিচারণে ছফার প্রতি হুমায়ূনের কটাক্ষ আর চাপা থাকেনি। হুমায়ূন এভাবে স্মৃতিচারণ করেছেন যে, তিনি আহমদ ছফাকে রিকশা চেপে যেতে দেখেন। ছফার মুখ শুকনা, অভূক্ত চেহারা। হুমায়ূন জানতে চাইলেন, বিষয় কী। ছফা জবাব দিলেন, ক্ষুধা নিয়ে একটা গল্প লিখছেন। তাই ক্ষুধার স্বরূপ বুঝতে কয়েক দিন না খেয়ে আছেন। কিছু দূর গিয়ে ছফা অজ্ঞান হয়ে রিকশা থেকে পড়ে যান।

ছফা ও হুমায়ূনের এ পারস্পরিক মোহভঙ্গ সাহিত্যের দুই ধারার অমোঘ নিয়তি।

লেখক: লেখক ও চিত্রনাট্যকার

হুমায়ূন আহমেদআহমদ ছফা
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    স্পেন
    ০
    অস্ট্রিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৫:০০ টা
    পর্তুগাল
    ০
    ক্রোয়েশিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৯:০০ টা
    সুইজারল্যান্ড
    ০
    আলজেরিয়া
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ১২:০০ টা
    অস্ট্রেলিয়া
    ০
    মিসর
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    কেপ ভার্দে
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৭:৩০ টা
    কলম্বিয়া
    ০
    ঘানা
    ০
    advertisement
    advertisement
    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা নাসিরের নেশা

    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা নাসিরের নেশা

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫

    দুদকের ভরসা  ‘সন্দেহজনক লেনদেন’

    দুদকের ভরসা ‘সন্দেহজনক লেনদেন’

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২

    কিং কেইনের কঙ্গো জয়

    কিং কেইনের কঙ্গো জয়

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪২

    অনেক বদলের এইচএসসি শুরু আজ

    অনেক বদলের এইচএসসি শুরু আজ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    সাবেক তিন গভর্নরের নথি তলব করল দুদক

    সাবেক তিন গভর্নরের নথি তলব করল দুদক

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

    রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা খুন

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা খুন

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৬

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬ তে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬ তে যুক্তরাষ্ট্র

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮

    দুই মাসে ৯ খুন, রায়পুরে আতঙ্ক

    দুই মাসে ৯ খুন, রায়পুরে আতঙ্ক

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১

    ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে

    ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২২

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০২ জুলাই)

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০২ জুলাই)

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৬

    মেসিদের ম্যাচ দেখতে টিকিটের হাহাকার

    মেসিদের ম্যাচ দেখতে টিকিটের হাহাকার

    ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬

    advertiseadvertise