নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই: আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
শিক্ষার্থীদের প্রতি শাসন, স্নেহ ও যত্নেরও সীমারেখা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বক্তা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষকের ক্ষেত্রে এ নৈতিকতা আরও কঠোর হওয়া উচিত। ‘পিতার মতো’ কিংবা ‘বড় ভাইয়ের মতো’ কোনো পরিচয়ই সীমালঙ্ঘনের বৈধতা দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
তিনি লিখেছেন, ‘যিনি স্নেহ ও শাসনের সীমা বোঝেন না, শিক্ষকতার নৈতিক দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই তার প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত। অভিযোগ হলে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আবার তদন্তের আগেই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তও নয়। সত্য জানতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনৈতিকতা ধামাচাপা দেওয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান তিনি। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, ‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকতা ধামাচাপা দেওয়া দ্বিগুণ ক্ষতিকর। এতে অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাও নষ্ট হয়।’
রাষ্ট্রপতি গোল্ড মেডেল পাওয়া সাইফুল্লাহ প্রশ্ন রাখেন, ‘নিজেদের অন্যায় আড়াল করব, আর অন্যের অন্যায়ে সরব হব, এ কেমন নৈতিকতা? এটা আবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেমনে হবে? কোদালকে কোদাল বলতে না পারলে আমরা নিজেরাই শুধরাতে পারিনি, বাকিদের ওয়াজ করব কোন যোগ্যতায়!’
ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা মানদণ্ড না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের মানদণ্ড ব্যক্তি, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানভেদে বদলাতে পারে না।’
ঢাকার পল্লবীতে অবস্থিত মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সের খতিব আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, ‘নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নাই।’ এ বিষয়ে কে কি ভাবল বা বলল, সেটিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।



