আগামীর সময়

অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা কেনা বন্ধ করে, দাবি তুষারের

অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা কেনা বন্ধ করে, দাবি তুষারের

দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কয়েকটি জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, পাবনাসহ কয়েকটি জেলার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি বছরই শিশুরা হামে আক্রান্ত হলেও এ বছর সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সাধারণ ওয়ার্ডের কোনো খবর জানা যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান জানান, আজ সকালে ৭০ শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। বিকেলে ছুটি দেওয়ার পর প্রায় ৫০ শিশু ছিল। তিন মাসে চারজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে চলতি মাসেই দুজন মারা যায়। তিন মাস ধরে তাঁরা আলাদা ওয়ার্ডে রেখে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১২ দিনে ১০৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে আজ রবিবার পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। পাবনায় চলতি বছরের তিন মাসে ৩৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হামের টিকা কেনা বন্ধ করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার- এমন দাবি করেছেন চিকিৎসক ও টকশো ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলছেন, ‘ইপিআইয়ের আওতায় শিশুর ৯ মাস বয়সে এমএমআর-এর প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চম সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসার প্ল্যান করে অন্তর্বর্তী সরকার।’

গত বছরই হামের টিকার সংকট দেখা দিয়েছেন দাবি করে বললেন, ‘সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ থাকায় ইপিআইয়ের টিকা কেনা হয়নি। ফলে ২০২৫ সালে দেশে ইপিআইয়ের টিকা সংকট দেখা দেয়।’

গত ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি এলাকাতেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

    শেয়ার করুন: