মসজিদে নববীর ৫০ বছরের কুরআন শিক্ষকের ইন্তেকাল

সংগৃহীত ছবি
কাবাগৃহের পর মুসলিম উম্মাহ ২য় সর্বাধিক আকর্ষণের কেন্দ্র হল রাসূল (ছাঃ)-এর স্মৃতিবিজড়িত মাসজিদুন নববী। হজ্জের কোন অংশ না হলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ্জে আগত প্রত্যেক মুসলমানই এক ভিন্ন আবেগে মাসজিদুন নববীতে আগমণ করেন।
সেই মাসজিদুন নববীর । তবে সেই মাসজিদুন নববীতে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে কুরআন ও দশ কিরাআত শিক্ষা দেওয়া প্রখ্যাত শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি ইন্তেকাল করেছেন।
ইসলামী জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত এই শিক্ষক এমন এক সময়ে মাসজিদুন নববীতে পাঠদান শুরু করেছিলেন, যখন মসজিদের মেঝেতে কার্পেট ছিল না; কাঁকর বিছানো প্রাঙ্গণেই তিনি ছাত্রদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। আধুনিক সম্প্রসারণ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা চালুর বহু আগ থেকেই সেখানে তার নিয়মিত দারস চলত।
নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধে তিনি ছিলেন অনন্য। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের দীর্ঘ এই সময়কালে তিনি প্রায় কখনোই দারস বন্ধ করেননি। তবে একটি দিন ছিল ব্যতিক্রম—তার বোনের ইন্তেকালের দিন। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার পরও তিনি আবার ছাত্রদের কাছে ফিরে এসে আগের মতো পাঠদান শুরু করেন। ঘটনাটি তার কুরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আজীবন সাধনার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে মদিনায় বহুল আলোচিত।
শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই পরবর্তীকালে কুরআনের শিক্ষক, ক্বারি ও দ্বীনি দাওয়াতের কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে তার শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং কয়েক প্রজন্ম ধরে তা বিস্তৃত হয়েছে।
তার নামাজে জানাজা শেষে তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাত আল-বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, যেখানে অসংখ্য সাহাবি ও আলেমের কবর রয়েছে।




