মৃতের কল্যাণে জীবিতদের আমল

প্রতীকী ছবি
মমৃত্যুর সঙ্গে মানুষের পার্থিব জীবনের অবসান ঘটে, কিন্তু তার সঙ্গে জীবিতদের সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। একজন মুমিনের মৃত্যুর পরও তার জন্য দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং কিছু কল্যাণমূলক কাজ করার সুযোগ জীবিতদের জন্য অবশিষ্ট থাকে। ইসলাম মৃতের কল্যাণে জীবিতদের এসব আমলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এর জন্য লোকাচার, আনুষ্ঠানিকতা কিংবা নির্দিষ্ট দিনের আয়োজন অপরিহার্য করেনি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকার লাভ করা হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১) অর্থাৎ মানুষ নিজের জীবনে এমন কিছু রেখে যেতে পারে, যার উপকার মৃত্যুর পরও চলতে থাকে। বিশেষত নেক সন্তানের দোয়া মৃত পিতা-মাতার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান আমল।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করারও সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে। এক ব্যক্তি তার মৃত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি অনুমতি দেন। (বুখারি, হাদিস : ১৩৮৮) তাই মৃতের পক্ষ থেকে দরিদ্রকে খাদ্য দেওয়া, প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষকে সহায়তা করা, পানির ব্যবস্থা করা কিংবা কোনো স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা সাওয়াবের কাজ হতে পারে।
মৃতের ওপর কোনো ফরজ হজ বাকি থাকলে তার পক্ষ থেকে হজ আদায়ের অনুমতিও হাদিসে পাওয়া যায়। এক নারী তার মৃত মায়ের পক্ষ থেকে হজ করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মহানবী (সা.) তাকে তা করার অনুমতি দেন। (বুখারি, হাদিস : ১৮৫২) একইভাবে মৃতের কোনো ঋণ বা বৈধ দায়-দায়িত্ব থাকলে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়াও তার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও উপকারের কাজ।
তবে মৃতের জন্য কল্যাণকর আমল করার নামে ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট দিন বা আনুষ্ঠানিকতার বিধান দেয়নি। তৃতীয়, সপ্তম, চল্লিশতম দিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজনকে ধর্মীয়ভাবে অপরিহার্য মনে করার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোরআন-সুন্নাহতে নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে মৃতের জন্য দোয়া ও সদকাকে কেন্দ্র করে এমন নির্ধারিত অনুষ্ঠান পালনের প্রচলন ছিল না।
বরং সুন্নাহর সৌন্দর্য হলো, মৃতের জন্য দোয়া ও কল্যাণমূলক কাজ করা যায় যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে, কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। মৃতের কবর জিয়ারত করে তার জন্য দোয়া করা, তার পক্ষ থেকে সদকা করা এবং তার ঋণ-দায় পরিশোধে সহযোগিতা করা হতে পারে ভালোবাসার বাস্তব প্রকাশ।
অতএব মৃতের কল্যাণে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো লোকদেখানো আয়োজন না করে আন্তরিক দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা ও শরিয়তসম্মত নেক আমল করা। মৃত্যুর পর প্রিয়জনের জন্য আমাদের ভালোবাসা যতটা গভীর হবে, ততটাই আমাদের চেষ্টা হওয়া উচিত তাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত রীতির অনুসরণ নয়, বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করা।
মাহন আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
লেখক: তরুণ আলেম।




