হারাম উপার্জনের ভয়াবহ পরিণতি

প্রতীকী ছবি
জীবিকা অর্জন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। ইসলাম শুধু উপার্জনের নির্দেশই দেয়নি, বরং তা যেন হালাল ও বৈধ উপায়ে হয়, সে বিষয়েও কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ মানুষের খাদ্য, পোশাক, ইবাদত, দোয়া কবুল হওয়া এবং পারিবারিক জীবনের বরকত অনেকাংশে নির্ভর করে তার উপার্জনের উৎসের ওপর। বাহ্যিকভাবে সম্পদের পরিমাণ যতই বেশি হোক, যদি তা হারাম উপায়ে অর্জিত হয়, তবে তা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা বলেছেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে, তা থেকে আহার করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮)। অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৯)। এ আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ইসলাম শুধু উপার্জন নয়, বৈধ উপার্জনকেই গ্রহণযোগ্য মনে করে।
হারাম উপার্জনের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হলো, এর কারণে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত, দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। কিন্তু তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও জীবিকা হারাম হওয়ায় তিনি বলেছেন, ‘তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম, হাদিস : ১০১৫)। অর্থাৎ হারাম উপার্জন মানুষের সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
হারাম সম্পদ কখনো প্রকৃত বরকত বয়ে আনে না। বাহ্যিকভাবে সম্পদের প্রাচুর্য দেখা গেলেও তাতে মানসিক শান্তি, পারিবারিক সুখ ও প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০১৫)। তাই হারাম অর্থ দিয়ে দান-সদকা বা অন্য কোনো নেক কাজ করলেও তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
আখিরাতে হারাম উপার্জনের শাস্তি আরও ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্যে লালিত-পালিত হয়েছে, জাহান্নামের আগুনই তার জন্য অধিক উপযুক্ত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬১৪)। এ হাদিস একজন মুমিনকে তার উপার্জনের উৎস সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়।
বর্তমান সমাজে ঘুষ, সুদ, প্রতারণা, ওজনে কম দেওয়া, পণ্যে ভেজাল, কর ফাঁকি, আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জুয়া, অনলাইন প্রতারণা এবং মানুষের অধিকার হরণসহ নানা উপায়ে হারাম উপার্জনের প্রবণতা বেড়েই চলছে। মানুষ সাময়িক লাভের আশায় এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু ইসলাম শিক্ষা দেয়, অল্প হলেও হালাল উপার্জন অনেক বেশি বরকতময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১২০৯)।
তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিজের উপার্জনের উৎস নিয়মিত পর্যালোচনা করা, সন্দেহজনক লেনদেন থেকে দূরে থাকা এবং অতীতে অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ থাকলে আন্তরিক তাওবা করে যথাসম্ভব তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া বা শরিয়তসম্মত উপায়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা।
হালাল উপার্জন শুধু অর্থনৈতিক সফলতার বিষয় নয়, এটি ইমান, ইবাদত, পরিবার ও আখিরাতের মুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আর হারাম উপার্জন সাময়িক লাভ দিলেও শেষ পর্যন্ত তা মানুষের হৃদয় থেকে বরকত, জীবন থেকে শান্তি এবং আখিরাত থেকে সফলতা কেড়ে নেয়।




