শিশুদের সালামে অভ্যস্তকরণে নববী রীতি

ছবি: এআই
সালাম ইসলামের অন্যতম সুন্দর সামাজিক শিক্ষা। এটি যেমন সাক্ষাতের বেলায় সুন্দর একটি সম্ভাষণ, তেমনি একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে অন্য মুসলিমের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের দোয়াও। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সালামের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা তাই ইসলামী শিষ্টাচার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহানবী (সা.) নিজ আচরণের মাধ্যমে শিশুদের সালামে অভ্যস্ত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে-
عَنْ أَنَسِ، بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى غِلْمَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ .
আনাস ইবনেমালিক (রা) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল বালকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় তিনি তাদের সালাম দিলেন। (মুসলিম, হাদিস: ২১৬৮)
হাদিসটির দিকে গভীরভাবে তাকালে নবীজির (সা.) শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও শিক্ষা দেওয়ার অসাধারণ পদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি শিশুদের ছোট বলে উপেক্ষা করতেন না। বরং তাদের সঙ্গে কথা বলতেন, স্নেহ করতেন এবং সালাম দিতেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সামাজিক মর্যাদা বা বয়সের পার্থক্য সালামের সৌন্দর্যকে সীমাবদ্ধ করে না।
শিশুরা মূলত অনুকরণপ্রিয়। বড়রা যে আচরণ করে, তারা তা দ্রুত গ্রহণ করে। তাই শিশুদের শুধু ‘সালাম দাও’ বলে শেখানোর চেয়ে নিজেদের জীবনে সালামের চর্চা করে দেখানো অধিক কার্যকর। বাবা-মা, শিক্ষক ও পরিবারের বড়রা যখন শিশুদের দেখলেই সালাম দেবেন এবং তাদের সালামের জবাব দেবেন, তখন সালাম তাদের কাছে একটি স্বাভাবিক ও আনন্দময় অভ্যাসে পরিণত হবে।
শিশু সালাম দিলে তার জবাব দেওয়া এবং তাকে উৎসাহিত করাও জরুরি। এতে তার মধ্যে আত্মমর্যাদা, সৌজন্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে সালামের মাধ্যমে শিশু বুঝতে শেখে যে, একজন মুসলিম অন্যের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে।
নবীজি (সা.)-এর এই সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, শিশুদের ইসলামী আদব শেখানোর সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি হলো ভালোবাসার সঙ্গে নিজের আচরণে তার বাস্তব নমুনা তুলে ধরা। তাই ঘর, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও সমাজে শিশুদের সালামে অভ্যস্ত করার জন্য নববী পদ্ধতিই হতে পারে আমাদের আদর্শ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক






