নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের অনন্য ফজিলত

প্রতীকী ছবি
নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে বান্দা প্রতিদিন বারবার তার রবের সামনে দাঁড়ায়। এই নামাজ শেষ হওয়ার পরও কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে মুমিনের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। এতে আল্লাহর তাওহিদ, পরিপূর্ণ জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অনন্য ঘোষণা রয়েছে।
নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ
‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ৬৪৬৪)
হাদিসটির বক্তব্য অত্যন্ত গভীর। এখানে জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা সম্পর্কে এমনভাবে বলা হয়নি যে, আয়াতুল কুরসি পাঠ করলেই অন্যকোনো আমলের প্রয়োজন থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে আয়াতটির বিশেষ মর্যাদা এবং নামাজের পর নিয়মিত পাঠের বিপুল ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, বান্দা ঈমান ও ফরজ-ওয়াজিব আমল যথাযথভাবে পালন করে আল্লাহর রহমতের আশায় এই আমল করলে এটি তার জন্য জান্নাতের পথে বড় এক নেক আমল হিসেবে পরিগণিত হয়।
আয়াতুল কুরসির বিষয়বস্তুও এর মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।’ এই আয়াতে আল্লাহর একত্ব, তাঁর অসীম জ্ঞান, ক্ষমতা ও সার্বভৌম কর্তৃত্বের কথা একসঙ্গে উঠে এসেছে। ফলে নামাজ শেষে এটি পাঠ করা যেন ইবাদতরত বান্দার হৃদয়কে আবারও তার মহান প্রতিপালকের স্মরণে স্থির করে।
আয়াতুল কুরসি পাঠের আরেকটি সৌন্দর্য হলো এর জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয় না। নামাজ শেষ করে কয়েক মুহূর্ত মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলেই এই আমল সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু ছোট একটি আমলের পেছনে রয়েছে আল্লাহর মহানত্বের স্মরণ এবং আখিরাতের বিশাল পুরস্কারের সুসংবাদ।
তাই একজন মুমিনের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা। শুধু দ্রুত পাঠ করে শেষ করা নয়, বরং এর অর্থ হৃদয়ে ধারণ করে পাঠ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোরআনের প্রকৃত প্রভাব তখনই জীবনে ফুটে ওঠে, যখন তার শব্দ জিহ্বা অতিক্রম করে হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং মানুষের বিশ্বাস, চরিত্র ও কর্মকে আলোকিত করে।



