আল্লাহ তাআলাই প্রকৃত রিজিকদাতা

প্রতীকী ছবি
আল্লাহ তাআলাই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তাঁর ইচ্ছায়ই নদীনালায় পানি প্রবাহিত হয়। মাটির উর্বর শক্তি তাঁরই দান। তিনি মাটি থেকে শস্যদানার অঙ্কুরোদগম ঘটান। সূর্য ও চন্দ্রের আলো দ্বারা তার পুষ্টি যোগান। তাঁর ইচ্ছায়ই চারাগাছ ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে উঠে এবং একপর্যায়ে তা ফল ও ফসলে পূর্ণতা লাভ করে। আল্লাহর ইচ্ছা না হলে গাছে ফল ও ফসল ধরানো কার পক্ষে সম্ভব?
ক্ষেত্রবিশেষে এর পেছনে মানুষের মেহনত আছে বটে, কিন্তু সে মেহনতের উপকরণও আল্লাহ তাআলাই যোগান। উপায়-উপকরণের নিজস্ব এমন কোনো ক্ষমতা নেই যে, তা অবলম্বন করলে রিজিক প্রাপ্তি অবশ্যম্ভাবী হবে। কত শ্রম ও মেহনতই তো বৃথা যায়। আল্লাহর যখন ফসল দেওয়ার ইচ্ছা না হয় হাজার চেষ্টা করেও মানুষ ফসল পায় না। অনেক সময় দেখা যায় অল্প মেহনতেও প্রচুর ফসল উৎপন্ন হয়। যারা প্রকৃত চক্ষুষ্মান তারা ঠিকই বুঝে, মানুষের মেহনত ও দৌড়ঝাঁপ আল্লাহ প্রদত্ত এক বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা। এর আড়ালে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়ই আসল শক্তি। যাবতীয় ফল-ফসল ও খাদ্য-পানীয় তাঁর ইচ্ছারই প্রকাশ। আমরা যে খাদ্য-পানীয় লাভ করছি তা কেবল আমাদের মেহনতের ফল নয়; বরং তারও প্রকৃতদাতা আল্লাহ তাআলা। তিনি দান না করলে খাদ্য-পানির ব্যবস্থা করে নিজের ক্ষুধা-পিপাসা মিটানোর ক্ষমতা কোন মানুষের নেই।
কাজেই আল্লাহ তাআলাই যেহেতু প্রকৃত রিজিকদাতা, তাই মুমিন বান্দার কর্তব্য তাঁর কাছ থেকে রিজিক চেয়ে নেওয়া। যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেব।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৭)
প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককেই রিজিক দিয়ে থাকেন। যে তার কাছে চায় তাকে যেমন দেন যে তার কাছে চায় না তাকেও তিনি দান করেন। যেমন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৬)
কোরআনের আয়াত থেকে জানা যায় যে, যারা আল্লাহকে মানে না কিংবা তাঁর কাছে রিজিক প্রার্থনা করে না, সেই কাফির ও মুশরিকদেরকেও আল্লাহ তাআলা রিজিক দান করেন। তবে তাদেরকে রিজিক দেওয়া আর মুমিনদেরকে রিজিক দেওয়ার মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য।
অবিশ্বাসীরা অনেক সময় মনে করে যে, তাদের ধন-সম্পদ ও উপার্জন কেবল তাদের নিজস্ব মেধা, শ্রম ও যোগ্যতার ফল। অথচ এই ধারণা অনেক বড় গুনাহ এবং এর জন্য রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। উপরন্তু, তাদের অর্জিত সম্পদ প্রায়ই নানা অবৈধ ও পাপকর্মে ব্যয়িত হয়। ফলে এক পাপের সঙ্গে আরেক পাপ যুক্ত হয়ে তাদের গুনাহ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অন্যদিকে মুমিন ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, তার সব রিজিক আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে। তাই সে আল্লাহর কাছে রিজিক প্রার্থনা করে, আর এই প্রার্থনাটিও তার জন্য একটি মহান ইবাদতে পরিণত হয়। এরপর সে আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করে, যার ফলে সে সাওয়াব অর্জন করে। এমনকি পানাহারের মাধ্যমে যে শক্তি লাভ করে, সেটিও যদি আল্লাহর আনুগত্য ও নেক কাজে ব্যয় করে, তবে তাতেও তার জন্য সাওয়াব লেখা হয়। এভাবে তার জীবনে সাওয়াবের পর সাওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এটাই আল্লাহর কাছে রিজিক চাওয়ার বরকত। মূলত বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্যই আল্লাহ তাআলা তাকে নিজের কাছে রিজিক প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন।
কিন্তু মানুষের স্বভাব হলো, যখন সে পানাহারে কষ্টের সম্মুখীন হয় এবং আয়-উপার্জনে সংকটে পড়ে; তখন সে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং মাখলুকের দুয়ারে ধরণা দেয়। এ বাস্তবতাকেই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ব্যক্ত করেছেন যে, ‘কিন্তু মানুষের অবস্থা তো এই যে, যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করেন এবং তাকে মর্যাদা ও অনুগ্রহ দান করেন তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করেছেন।’ ‘এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে অমর্যাদা করেছেন।’ (সুরা ফাজার, আয়াত: ১৫-১৬)
একটু ধৈর্যের সাথে চিন্তা করে দেখুন যে, ক্ষনিকের এই কষ্ট আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। আল্লাহ দেখছেন যে, বান্দা তাঁর দিকে রুজু করে না মাখলুকের কাছে হাত পাতে। কেন আমি অন্যের কাছে হাত পেতে এই পরীক্ষায় ফেল করতে যাচ্ছি? এমনও তো হতে পারে, এই ক্ষণিকের কষ্টের মধ্যেই আমার জন্য নিহিত রয়েছে মহাকল্যাণ, অফুরন্ত রহমত ও অশেষ প্রাপ্তি। তাই আমার কর্তব্য হল, আমার কল্যাণার্থে আল্লাহ তাআলা যে অবস্থাকে আমার জন্য পছন্দ করেছেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। সেই সঙ্গে সর্বশক্তিমান রিজিকদাতার কাছে নিজ অক্ষমতা প্রকাশ করে দোয়া করতে থাকা, তিনি যেন আমার কষ্ট দূর করে দেন এবং উত্তম রিজিকের ফায়সালা করে দেন




