সুসময়ে আল্লাহকে চিনুন, দুঃসময়ে সাহায্য পাবেন

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে সুসময় যেমন আসে, তেমনি একসময় নেমে আসে দুঃসময়ও। সুখের দিনে চারপাশে অনেক মানুষ থাকে, জীবনও তখন সহজ ও স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু বিপদ যখন দরজায় কড়া নাড়ে, আপনজনেরা দূরে সরে যায়, অসহায়ত্ব যখন হৃদয়কে ভারী করে তোলে, তখন মানুষ একজন আশ্রয়দাতার সন্ধান করে। সেই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আশ্রয় আল্লাহ তাআলা। তবে বিপদের সময় আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য সম্পর্কটি কেবল বিপদের সময় গড়ে তুললেই হয় না। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিনগুলোতেই বান্দাকে তাঁর দিকে ফিরে আসতে হয়, তাঁর আনুগত্য করতে হয় এবং তাঁকে স্মরণ করতে হয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জীবনের এক গভীর সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন,
تَعَرَّفْ إِلَى اللَّهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ
‘সচ্ছলতার সময়ে আল্লাহর সঙ্গে তোমার সম্পর্ক গড়ে তোলো, তাহলে সংকটের সময়ে তিনি তোমাকে চিনবেন (সাহায্য করবেন)।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ২৯৬১)
হাদিসটির শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। এখানে ‘আল্লাহকে চেনা’ বলতে শুধু তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা বোঝানো হয়নি; বরং তাঁর প্রতি ঈমান, আনুগত্য, ইবাদত, তাওয়াক্কুল এবং তাঁর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করাকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘সচ্ছলতার সময়’ বলতে শুধু অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য নয়, সুস্থতা, নিরাপত্তা, যৌবন, অবসর ও জীবনের স্বাভাবিক সময়কেও বোঝায়।
মানুষ সাধারণত বিপদে পড়লে বেশি করে আল্লাহকে ডাকে। অসুস্থ হলে দোয়া করে, বিপদে পড়লে নামাজে দাঁড়ায়, সংকটে পড়লে কান্নাকাটি করে সাহায্য চায়। এটি নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু মুমিনের সম্পর্ক কেবল বিপদের সময়ের সম্পর্ক নয়। সুখের দিনেও যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে, নামাজ কায়েম করে, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে এবং আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, সে আসলে নিজের জন্য এমন এক আধ্যাত্মিক আশ্রয় তৈরি করে, যা দুঃসময়ে তাকে শক্তি দেয়।
তাই বিপদ আসার অপেক্ষা না করে আজই আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। সুস্থতার সময়ে ইবাদতকে গুরুত্ব দিতে হবে, সম্পদের সময়ে দান করতে হবে, অবসরের সময়ে কোরআন পড়তে হবে এবং প্রতিটি নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। কারণ আমরা জানি না, জীবনের কোন মুহূর্তে সুসময় শেষ হয়ে দুঃসময় শুরু হবে। যে হৃদয় সুখের দিনগুলোতে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, বিপদের অন্ধকারেও সেই হৃদয় আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের আশায় দৃঢ় থাকতে পারে।
সুতরাং আসুন আমরা দুঃসময় আসার অপেক্ষা নয়, সুসময় থাকতেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করি। বিপদের মুহূর্তে সাহায্য পাওয়ার জন্য আজকের স্বাচ্ছন্দ্যের সময়গুলোকে আল্লাহর আনুগত্য, ইবাদত ও শুকরিয়ায় কাজে লাগাই।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



