হাদিসের কথা
মহানবী (সা.) যাকে ‘উত্তম নারী’ বলেছেন
- হাদিসের ভাষায় উত্তম নারীর তিনটি গুণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একজন নারীর সৌন্দর্য কতটা, তার পোশাক কতটা আকর্ষণীয় কিংবা সামাজিকভাবে তার অবস্থান কত উঁচু, ইসলামে এসব দিয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় না। ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নারীর প্রকৃত মর্যাদা ফুটে ওঠে তার চরিত্র, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও দাম্পত্য জীবনের আচরণে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে এমনই কিছু গুণের কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘উত্তম নারীদের মধ্যে সে-ই, যাকে দেখলে তোমার আনন্দ হয়, তুমি কোনো বৈধ বিষয়ে নির্দেশ দিলে সে তোমার আনুগত্য করে এবং তোমার অনুপস্থিতিতে নিজের ব্যাপারে ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে তোমার অধিকার সংরক্ষণ করে।’ (সহিহুল জামে, হাদিস: ৩২৯৯)
হাদিসটির প্রথম গুণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—‘যাকে দেখলে তোমার আনন্দ হয়।’ এখানে শুধূ বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়নি। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে প্রশান্তি দেবেন, তার উপস্থিতিতে ঘরে স্বস্তির আবহ তৈরি হবে, তার আচরণে ভালোবাসা ও মমতার প্রকাশ থাকবে। পবিত্র কোরআন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ‘সাকিনা’ বা প্রশান্তির সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরশাদ হয়েছে— ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সুরা রূম, আয়াত : ২১)
দ্বিতীয় গুণ হলো ‘বৈধ বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য।’ ইসলামে দাম্পত্য জীবন কোনো একতরফা কর্তৃত্বের সম্পর্ক নয়। এটি পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকারের বন্ধন। স্বামীর আনুগত্য বলতে আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশ পালন করা বোঝায় না। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।’ (মুসনাদ আহমাদ)। ফলে উত্তম স্ত্রী স্বামীর ন্যায়সংগত ও শরিয়তসম্মত বিষয়ে সহযোগিতা করেন এবং সংসারের শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য রক্ষা করেন।
তৃতীয় গুণটি আরও গভীর—‘স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার নিজের সম্মান ও স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ করা।’ একজন বিশ্বস্ত স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করেন না, দাম্পত্যের গোপনীয়তা রক্ষা করেন এবং আমানতের সম্পদে খেয়ানত করেন না। পবিত্র কোরআন সৎ নারীদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছে, ‘তারা অনুগত এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে আল্লাহ যা সংরক্ষণ করতে বলেছেন তা সংরক্ষণ করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৪)
এই হাদিসে একজন আদর্শ নারীর তিনটি সৌন্দর্য একসঙ্গে ফুটে উঠেছে: তার উপস্থিতিতে প্রশান্তি, আচরণে সহযোগিতা এবং অনুপস্থিতিতে বিশ্বস্ততা। এগুলো শুধু একজন নারীর জন্যই শিক্ষণীয় নয়; পুরুষেরও দায়িত্ব হলো এমন একজন জীবনসঙ্গীর মর্যাদা দেওয়া, যার প্রতি সে ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কারণ সুন্দর দাম্পত্য এক পক্ষের গুণে গড়ে ওঠে না, দুজনের দায়িত্বশীলতায় গড়ে ওঠে।
আসলে নবী (সা.)-এর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন উত্তম নারী ঘরের সৌন্দর্য শুধূ তার উপস্থিতি দিয়ে বাড়ান না; তার চরিত্র, বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসা দিয়ে একটি পরিবারকে শান্তির আশ্রয়ে পরিণত করেন।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক




