সম্পদ বাড়ে, বরকত কি বাড়ে

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনধারণের অন্যতম প্রধান অবলম্বন হলো অর্থ-সম্পদ। জীবনের প্রয়োজন পূরণ, পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য অর্থ উপার্জন করতে হয়। তবে ইসলামে শুধু সম্পদ উপার্জনই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তা কোন পথে উপার্জিত হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হালাল উপার্জন ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে, আর হারাম উপার্জন মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনে। অথচ মানুষের মধ্যে যখন অর্থের প্রতি অতিরিক্ত মোহ সৃষ্টি হয়, তখন অনেকেই হালাল-হারামের পার্থক্য ভুলে যায়। এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বহু আগেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ أَمِنْ حَلاَلٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ
আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে। (বুখারি, হাদিস: ২০৮৩)
এ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যৎ সমাজের একটি ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। একসময় মানুষের মধ্যে সম্পদ অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হবে, কিন্তু সেই সম্পদ হালাল পথে অর্জিত হচ্ছে, নাকি হারাম পথে, তা নিয়ে অনেকের কোনো চিন্তা থাকবে না। অর্থ উপার্জনই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠবে। ফলে সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, আত্মসাৎ, জালিয়াতি, ওজনে কম দেওয়া, অবৈধ ব্যবসা কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করার মতো কাজেও তারা দ্বিধা করবে না।
অথচ ইসলামে সম্পদের পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে তা বৈধ।’ (সুরা নিসা, ৪:২৯)। অর্থাৎ মানুষের সম্পদ অর্জনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি, সততা ও বৈধতার প্রশ্নটি অপরিহার্য। হারাম উপার্জন দিয়ে বাহ্যিকভাবে প্রাচুর্য অর্জন করা সম্ভব হলেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ ও বরকত থাকে না।
এ হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা হলো, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল উপার্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সম্পদের পরিমাণ নয়, বরং তার উৎস কতটা পবিত্র, সেটিই একজন মুমিনের কাছে বিবেচ্য হওয়া উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, পেশা কিংবা যেকোনো আর্থিক লেনদেনে আল্লাহর বিধান মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুনিয়ায় অর্জিত প্রতিটি সম্পদের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। তাই সামান্য লাভের আশায় হারাম পথে পা বাড়ানো নয়; বরং অল্প হলেও হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।



