যে আমলে বৃদ্ধি পেতে পারে বয়স

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। কিন্তু এই সময় কত দীর্ঘ হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। ইসলামে এমন কিছু আমলের কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনে বরকত দান করেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা বা সিলাতুর রাহিম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘কোনো কিছু আল্লাহর ফয়সালাকে (তাকদিরকে) পরিবর্তন করতে পারে না, তবে দোয়া পারে। আর কোনো কিছু বয়স বৃদ্ধি করতে পারে না, তবে সৎকর্ম (বিশেষ করে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা) পারে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)
এ হাদিসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এক. দোয়া মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে অনেক বিপদ-আপদ দূর হওয়ার মাধ্যম হয়।
দুই. এমন একটি আমল আছে, যা মানুষের বয়স বৃদ্ধি করে। আর তা হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা।
তবে এখানে একটি প্রশ্ন আসে, মানুষের আয়ু তো পূর্বনির্ধারিত। তাহলে বয়স কীভাবে বৃদ্ধি পায়? ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা সবকিছুই পূর্ব থেকে জানেন এবং লাওহে মাহফুজে তা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে আলেমগণ বিশেষ করে ইমাম নববী (রহ.) ও হাফিজ ইবন হাজার (রহ.) যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে বুঝা যায় যে, এই হাদিসের দুটি দিক হতে পারে-
এক. আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় বান্দার প্রকৃত আয়ু বৃদ্ধি করে দেন, যা ফেরেশতাদের নিকট লিখিত আয়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দুই. বয়সে বরকত দান করেন। অর্থাৎ অল্প সময়েও মানুষ এত বেশি কল্যাণকর কাজ করার তাওফিক পায়, যেন সে দীর্ঘ জীবন লাভ করেছে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১)
অন্য আয়াতে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা কি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে? এরাই তারা, যাদের আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন।’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২২-২৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং তার আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭)
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়ার সময় পান না। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, সম্পত্তির বিরোধ বা অহংকারের কারণে বছরের পর বছর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকে। অথচ একটি ফোনকল, একটি খোঁজখবর, অসুস্থতার সময় পাশে দাঁড়ানো কিংবা ঈদ-উৎসবে সাক্ষাৎ করার মতো ছোট ছোট উদ্যোগও সিলাতুর রাহিম-এর অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, দীর্ঘ ও বরকতময় জীবনের প্রত্যাশী প্রত্যেক মুসলিমের উচিত আত্মীয়তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া। কারণ এটি শুধু পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে না, বরং আল্লাহর রহমত, রিজিকের প্রশস্ততা এবং জীবনের বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই আসুন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখি, বেশি বেশি দোয়া করি এবং এমন আমল করি, যা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনকেই সমৃদ্ধ করবে।
লেখক: আলেমও ও সাংবাদিক
saifpas352@gmail.com




