পবিত্র হজ ২০২৬ এর ধারাবাহিক আমলগুলো

ছবি: এআই
হজ শুধু একটি সফরের নাম নয়; এটি একজন মুমিনের আত্মিক পুনর্জন্মের যাত্রা। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান একই পোশাকে, একই স্লোগানে, মহান রবের দরবারে সমবেত হন আত্মসমর্পণ, ক্ষমাপ্রার্থনা ও ঈমানের নবায়নের জন্য। হজের সব ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইব্রাহিম (আ.), হাজেরা (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর ত্যাগ, আনুগত্য ও ঈমানের স্মৃতি।
তাই হজের দিনগুলো শুধু আনুষ্ঠানিক আমল পালনের সময় নয়; বরং এটি ধৈর্য, শৃঙ্খলা, তাকওয়া ও আল্লাহমুখী জীবনের এক মহাসাধনা। পবিত্র হজ ২০২৬ উপলক্ষে হাজিদের ধারাবাহিক আমল, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো।
২৪ মে রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই হাজিগণ ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশে রওয়ানার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
২৫ মে সোমবার হাজিগণ মিনায় অবস্থান করবেন। পঁচিশে মে রাতেই হাজিগণ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে রওনা করবেন।
২৬ মে মঙ্গলবার পবিত্র হজ ২০২৬ পালিত হবে। হাজিগণ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা করবেন এবং মুজদালিফায় রাত্রি যাপন করবেন।
২৭ মে বুধবার সূর্যোদয়ের পর মুজদালিফা থেকে রওয়ানা করে বড় জামারায় পাথর মারবেন। কোরবানি নিশ্চিত করার পর মাথা মুন্ডন করে হালাল হবেন। তাওয়াফে জিয়ারাহ পালন করবেন। সায়ী করবেন। এরপর মিনায় গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন।
২৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর জামারায় যাবেন। ৩টি জামারায় ২১টি পাথর মারবেন এবং মিনায় ফিরে আসবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন।
২৯ মে শুক্রবার দুপুরের পর জামারায় যাবেন। ৩টি জামারায় ২১টি পাথর মারবেন এরপর হোটেলে ফিরে আসবেন।
৩০ মে শনিবার পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করবেন সম্ভব হলে। শনিবার দুপুরের পর তিন জামারায় ২১টি পাথর মেরে হোটেলে ফিরে আসবেন।
সবশেষে মক্কা থেকে বিদায়ের সময় বিদায়ী তাওয়াফ করবেন।
মিনায় অবস্থানকালে মহান আল্লাহর জিকির তিলাওয়াত এবাদত-বন্দেগি দোয়া এবং মোনাজাতে সময় কাটাবেন।
গাইড/মুয়াল্লেমের অনুসরণ জরুরি
এই আমল সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করতে হলে নতুনদের জন্য মুয়াল্লিমের অনুসরণের বিকল্প নেই। উপরোক্ত দিনগুলোতে গ্রুপ লিডার/ মুয়াল্লিম/ গাইডদের দিকনির্দেশনা মেনে চলবেন। আর না হয় কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়ে যেতে পারেন।
মনে রাখবেন; মক্কা থেকে মিনায় পৌঁছা ও মিনা থেকে আরাফায় পৌঁছা কিছুটা সহজ কিন্তু আরাফাতের ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গমন এবং মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করে ফজরের নামাজের পরে বড় জামারায় শয়তানকে পাথর মেরে পুনরায় মিনার তাঁবুতে পৌঁছা অথবা হোটেলে পৌঁছা অনেক কঠিন কাজ। অবশ্য হাজিগণ গ্রুপ লিডারদের ফলো করলে সবগুলো কঠিন কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
ইহরাম মানে দুনিয়ায় থেকেও রবের সান্নিধ্যে
২৪ মে রবিবার ইহরামের দুই টুকরো কাপড় যখন গায়ে জড়িয়ে নিবেন, তখন থেকেই মনে করতে হবে যে, এই পৃথিবীর সঙ্গে আপনার সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারে বা দেশে কথাবার্তায় সময় নষ্ট করবেন না। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিষয় সমাধান আলাপ-আলোচনা ইত্যাদি মাথায় আনা দরকার নেই। তবে পরিবারের সদস্যরা যেন টেনশন না করে- আপনারা বেঁচে আছেন, সুস্থ আছেন এবং হজের কাজ চলছে; এ ধরনের খবরাখবর দিতে সামান্য ব্যবহার করতে পারেন।
মাহরামদের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ
মহিলাদের জন্য হজকে জিহাদ বলা হয়েছে। অনেকে মা, স্ত্রী, কন্যা, মাহরাম মহিলা হাজিদেরকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তাই পুরুষ হয়ে আপনি আপনার কাজগুলো করতে হবে। সেই সঙ্গে আপনার নারী সদস্যের দেখাশোনা ও সহযোগিতাও করতে হবে। একজন নারীর জিহাদের একটা বড় অংশের সহযোগিতার কার্যক্রম কিন্তু পুরুষ হাজির ওপর থাকবে। তাহলে পুরুষ হাজি কতটা প্রস্তুত থাকা দরকার বুঝতে হবে এবং সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
হজের সময় প্রায় কাছাকাছি। সুতরাং অতিরিক্ত ওমরা পালন, তাওয়াফ এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করতে উত্তপ্ত রোদ্রে আসা-যাওয়া করা অসুস্থ হওয়ার কারণ হতে পারে। এই নামাজ আপনাদের হোটেলের কাছাকাছি কোনো মসজিদে আদায় করে নিতে পারেন। এই ক’দিন মসজিদে হারামে মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদে প্রবেশ করেই দুই রাকাত দুখুলুল মসজিদ নামাজ আদায় করুন। এরপর ফরজ নামাজ ও জানাজার নামাজ জামায়াতে আদায় করুন। এরপর কিছু সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করুন। আর বাকি সময় ভালোভাবে ঘুম, খাবার ইত্যাদিতে সময় কাটান। সৌদি আরবের পুলিশ-প্রশাসন, আসকারি ও পবিত্র মসজিদে হারামের আল হাইয়াতুল আম্মাহ এর দিকনির্দেশক খাদেমদের দিকনির্দেশনা মেনে চলুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাবেন না। হারাম শরীফের NOT COLD গ্যালানের পানি পান করবেন।
মহান আল্লাহ আমাদের সবার হজকে কবুল করুন।
লেখক: মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস, জামিয়া রহমানিয়া দারুল উলুম কাজলা, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।




