যে ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা দোয়া করে!

সংগৃহীত ছবি
ইসলাম পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও কল্যাণকামিতা অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। একজন মুমিন শুধু নিজের ইবাদত ও মুক্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকে না বরং সে তার ভাইয়ের জন্যও গোপনে দোয়া করেন। বিশেষ করে অনুপস্থিত অবস্থায় করা দোয়ার একটি আলাদা মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত-
عَنْ صَفْوَانَ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ - وَكَانَتْ تَحْتَهُ الدَّرْدَاءُ قَالَ قَدِمْتُ الشَّامَ فَأَتَيْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي مَنْزِلِهِ فَلَمْ أَجِدْهُ وَوَجَدْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ فَقَالَتْ أَتُرِيدُ الْحَجَّ الْعَامَ فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ " .
সাফওয়ান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সাফওয়ান (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়াতে আবু দারদা (রা.) এর ঘরে গেলাম।
আমি তাকে ঘরে পেলাম না বরং সেখানে উম্মু দারদাকে পেলাম। তিনি বললেন, আপনি কি এ বছর হজ্জ পালন করবেন? আমি বললাম, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর নিকট আমাদের কল্যাণের জন্যে দোয়া করবেন। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে আমীন এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই। (মুসলিম, হাদিস : ২৭৩৩)
এই হাদিসে মুমিনের আন্তরিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। উম্মু দারদা (রহ.) নিজের জন্য নয়, বরং অনুপস্থিত অবস্থায় দোয়ার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্যের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, দোয়া গোপনে ও নিঃস্বার্থভাবে করা হচ্ছে যেখানে কোনো প্রদর্শন নেই, কোনো পার্থিব লাভের প্রত্যাশাও নেই।
মুমিন যখন তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখন সে আসলে নিজের জন্যও দোয়ার ব্যবস্থা করে নেয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা সেই দোয়ার প্রতিদান হিসেবে ফেরেশতার মাধ্যমে তার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ লিখে দেন।

