জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও বাংলাদেশে কম: রিজভী

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এর দাম এখনো কম বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে সরকারকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও জটিল হচ্ছে। জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে ওই অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহেও পড়ছে।
‘২০ টাকা বাড়ানোর পরও প্রতি লিটারে লোকসান ৭০’
দেশে জ্বালানি তেলের মোট ব্যবহার প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের ব্যবহার প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। অথচ সরকারকে তা কিনতে হতো প্রায় ২৫০ টাকা দরে। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হতো। এখন ২০ টাকা মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে—দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশে ডিজেলের দাম আগে ছিল ১১৫ টাকা। ভারতে তা ১৩৪ টাকার কিছু বেশি। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে ডিজেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দামের তুলনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জাপানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ১ দশমিক ০৭ ডলার। বাংলাদেশে মূল্য সমন্বয়ের আগে ছিল শূন্য দশমিক ৩০০ ডলার। তাই কম দামে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে মনে করেন রিজভী।
তার ভাষ্য, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
জনগণের স্বার্থে নেওয়া সরকারের পদক্ষেপকে ব্যঙ্গ করে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এ বিষয়ে জনগণ সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
‘সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার উৎপাদন ও উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে কাজ করছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়নেও কাজ চলছে’—উল্লেখ করেন রিজভী।
সরকারের অপপ্রচার রোধে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি
প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তির এজেন্টরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রিজভীর। তার মতে, সরকার তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
রিজভী জানান, অপপ্রচার ও সরকারের বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন কর্মসূচি শুরু করবে। পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধেও থাকবে সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।
‘জাতিসংঘের অধিবেশনে ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট প্রতিনিধিদল’
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল যাওয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট প্রতিনিধিদল। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ও আরও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সংবর্ধনা ও রিসেপশনের আয়োজন করা হতো। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ধরনের আয়োজন করতে নিষেধ করেছেন। এসব আয়োজনের ব্যয় জনগণের অর্থ থেকে করা হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, সরকারের এসব পদক্ষেপে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হলেও জনগণ সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে।



