সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

বুধবার বিএনপির মিছিলে নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী
পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর নাইটিঙ্গেল-কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিরোধীদল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তবে এভাবে রাজনীতি করা যাবে না।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘আপনারা পার্লামেন্টে কথা বলেন, বাইরেও কথা বলেন, আপত্তি নেই। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার দায় কি আপনাদের নয়?’ এ সময় ৪৫০ গাড়ি নিয়ে বিরোধী জোটের লংমার্চের সমালোচনা করেন তিনি।
দেশকে অস্থিতিশীল করতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলছিলেন, ‘মধ্য বাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তার উত্তর দিতে হবে।’
রিজভীর দাবি, ‘একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।’ এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের প্রতি প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায়ও প্রতিবাদ জানাতে জামায়াত আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
বিরোধী জোটের একদফার আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী বললেন, ‘যে দলের সম্পর্ক রাজপথের ইট, কাঠ, ধুলা ও বালুর সঙ্গে, সেই দল বিএনপি। বিএনপির খুঁটি কোনো বাঁশের খুঁটি নয়, বিএনপির খুঁটি জনগণের খুঁটি। ওই জনগণের খুঁটির ওপর বিএনপি দাঁড়িয়ে আছে। এই খুঁটি এত শক্ত যে, হিমালয় পর্বতের শক্তি দিয়ে আঘাত করলেও এই খুঁটি নড়ানো যাবে না। মনে রাখতে হবে— বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— ডিএসসিসির প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ। এ ছাড়া কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



