হাম ও জ্বালানি নিয়ে সরকার লুকোচুরি করছে : জামায়াত আমির

শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
হাম সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার লুকোচুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সত্য লুকিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সংকট স্বীকার করলে, সবাই মিলে আলোচনা করে মোকাবিলা করা সহজ হয়।’
শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতাল এবং আসাদগেট পেট্রল পাম্প পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেছেন তিনি। এ সময় শিশু হাসপাতালের পরিবেশকে ‘ডিজাস্টার’ বলে আখ্যা দেন জামায়াত আমির।
দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এ হাসপাতালে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো জরুরি সেবা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার ভাষ্য, ‘দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে শয্যা মাত্র ৭০০। অথচ সারা দেশের রোগী আসে এখানে। পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সংকট ভয়াবহ। নবজাতকদের এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই, সিটিস্ক্যান নেই। মুমূর্ষু শিশুদের এসব পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
সরকারের অনুদানে পরিচালিত হাসপাতালটিতে বরাদ্দ কমানোয় প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা, ‘বাজেট যখন বাড়ছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ কমানো হলো কেন?’
‘হাম পরিস্থিতি যা দেখলাম তা উদ্বেগজনক। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পুরো স্বাস্থ্য খাত পড়েছে নাজেহাল অবস্থায়। হাসপাতালগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং তুলনা করা যেতে পারে বাজারের সঙ্গে,’ বলছিলেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হামের মতো ব্যাধির চিকিৎসায় আইসিইউ নেই। সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় তারা নির্বিকার। সংসদে সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। বাস্তবতাকে আড়াল করছে সরকার।’
হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে আসাদগেট পেট্রল পাম্পে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো গাড়ি, মোটরসাইকেল চালক ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জামায়াত আমির। ‘জ্বালানি সংকটের দায় সরকারকে দিচ্ছি না। যুদ্ধের কারণে এ পরিস্থিতি। এখানে লুকোচুরির কী আছে? তারপরও লুকোচুরি করা হচ্ছে,’ উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

