‘ধ্বংস ও পলিউটেড’ প্রশাসন পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন : নজরুল ইসলাম

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গত ১৭ বছরে ধ্বংস ও পলিউটেড হয়ে যাওয়া প্রশাসন পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই জঞ্জাল পরিষ্কার করে প্রশাসনকে কার্যকর ও জনবান্ধব করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান প্রয়াত কাজী জাফর আহমদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর বড় কার্যালয়ে না বসে সচিবালয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একই ভবনে একটি ছোট অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছেন। এর ফলে সচিবদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য আলাদা করে তেজগাঁওয়ে যেতে হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যাচ্ছেন। এর প্রভাব প্রশাসনের সর্বস্তরে পড়েছে।
‘সচিবালয়ের পিয়ন থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত সবাই এখন সময়মতো অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সরকারি অফিসেও আকস্মিকভাবে গিয়ে পরিস্থিতি দেখছেন।’
প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের প্রশাসনকে ধ্বংস ও ‘পলিউটেড’ করে ফেলা হয়েছে। দলীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। অন্যদিকে যোগ্য কর্মকর্তাদের বিদায় করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি যোগ করেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছে, তখন অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ভঙ্গুর এবং প্রশাসনিক কাঠামো ছিল অগোছালো। এই অবস্থার মধ্যেই সরকার দেশ পরিচালনার কাজ শুরু করেছে। গত ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে প্রশাসন পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে।
সরকার দেশের সমস্যা সমাধানে কোনো ‘রিজিড’ অবস্থানে নেই উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলছিলেন, সব রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সরকার আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে দেশ পুনর্গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা। রাজনৈতিক উসকানি বা প্ররোচনার পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী শান্তভাবে মোকাবিলা করছেন।
‘জনগণকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়’, যোগ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, দেশের সামনে নানা ধরনের সমস্যা ও সংকট দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। তবে সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ, কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জুবায়ের হায়দার ও সেলিম মাস্টার, ১২ দলীয় জোটভুক্ত কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির (জাফর) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীম, যুগ্ম মহাসচিব কাজী মোহাম্মদ নজরুল, প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের কন্যা কাজী জয়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাফর) সভাপতি আব্দুল্লাহ চৌধুরী পাশা, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরকার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মামুন আসিফ ভূঁইয়া, জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কাজী ফয়েজ আহমেদ ও সদস্য সচিব মেহেদি হাসান অভি প্রমুখ।








