দেশে এলো সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
যাদের মরদেহ আনা হয়েছে, তারা হলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার রুয়েল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, মো. ফরিদ, আবদুল জলিল সরদার ও মো. সোহেল রানা ওরফে সুমন; নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্যামল উদ্দিন।
মরদেহ গ্রহণের পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাতজনের আঙুলের ছাপ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত মরদেহগুলো দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, নিহত নয়জনের পরিবারের প্রত্যেককে মরদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে বিদেশে কাজ করেন এবং পরিবারের জন্য অর্থ পাঠান। নিহত বাকি বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইব্রাহীম আলাহমারি।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদে সোফা তৈরির ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন।








