এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে ফাহিম-নাজমুল
- আ. লীগের দখলে থাকা খেলার মাঠ এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে: নাহিদ ইসলাম

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্রীড়া উইং হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ (এনএসএ)। ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রেখে খেলাধুলার বিকল্প ও স্বাধীন পরিসর তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং সদস্যসচিব হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব খেলার মাঠ ও প্রতিষ্ঠান দলটির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর সেসব জায়গার অনেকগুলো এখন বিএনপির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গন ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই সংকট রয়েছে। এ কারণেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটুকু সুযোগ ছিল, তার মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া, আইন পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যখন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে পরিচালনা করা হলে তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে আবারও দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও স্বাধীন ও বিকল্প পরিসর তৈরি করা প্রয়োজন।
খেলার মাঠের সংকট তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গেলে শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে দাবিগুলো আসে, তার একটি হলো খেলার মাঠ। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু মাঠের অভাবে অনেক শিশু খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় মাঠ তৈরির মতো জায়গা থাকলেও দখল ও দলীয় প্রভাবের কারণে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যেসব খেলার মাঠ ও জায়গা দলটির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখন সেগুলোর অনেক জায়গায় বিএনপির লোকজন প্রভাব বিস্তার করছেন। এটি শুধু একটি দলের সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করা জরুরি।
এনএসএর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর বলেন, ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরায় তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে নতুন এই সংগঠন যেন কোনো দলের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠনে পরিণত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির সহযোগী সংগঠন হলেও ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে। ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং রাজনীতির বাইরে খেলাধুলার জন্য একটি বিকল্প পরিসর তৈরি করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে খেলাধুলার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, বিশেষ করে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশকে পরিচিত করার বড় একটি মাধ্যম। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলায় ভালো করার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আগামী ছয় মাসের জন্য এনএসএর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন সালমান মোহাম্মাদ জাভেদ, এম রফিকুল ইসলাম, মো. জহির রায়হান, খালেক শিকদার ও মো. আব্দুল মোনায়েম।
সদস্যসচিব এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান রাকিব (দপ্তর), আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন (সহদপ্তর), আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিডিয়া), সাদিয়া ফাইরোজ (সহমিডিয়া), মো. রাকিব হোসেন, মো. নাঈম হাওলাদার ও জিনিয়া শারমিন রিয়া। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন আরমানুল ইসলাম নয়ন।
এনএসএর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তারেক এ আদেল, জহিরুল ইসলাম মুসা, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ও আহনাফ সাঈদ খান।



