বাজেটে বৈষম্য নয়, জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জামায়াতের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতীয় বাজেট যেন সাধারণ মানুষকে শোষণের হাতিয়ার বা অর্থপাচারের বন্দোবস্তে পরিণত না হয়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বিগত বছরগুলোতে দেশের বাজেট জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারেনি। এবার গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি সংস্কারমূলক, জনবান্ধব, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাজেট প্রণয়ন জরুরি।’
আজ রবিবার রাজধানীর ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়াসরেসুল করিম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেছেন, ‘আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের বাজেট এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করার কাজে সহায়তা করতে চাই।’
তিনি জানান, জামায়াত ইতোমধ্যে ৭-৮টি প্রাক-বাজেট আলোচনা আয়োজন করেছে। এসব আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো সংক্ষিপ্ত করে দলের পার্লামেন্টারি পার্টির মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা কঠিন। তা সত্ত্বেও আমাদের এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা কেমন বাজেট চিন্তা করি, সেটি জাতির জানা উচিত। সে লক্ষ্যেই আমরা বাজেট প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চাই।’—যোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকার এই বাজেট উত্থাপন করতে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষ এই বাজেটে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চায়। ঋণনির্ভরতা কাটিয়ে দেশের মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাজেট তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়াসরেসুল করিম তার বক্তব্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। বলেছেন, ‘আগামী বাজেটে যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই আসবে গরিব ও মধ্যবিত্তের পকেট থেকেবিশেষ করে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা রাজস্ব আদায়ে কোনো সৃষ্টিশীল বা বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে চান না। তারা প্রথাগত উৎসের বাইরে গিয়ে কষ্ট করতে চান না বলেই সহজ মাধ্যম হিসেবে ভ্যাটকে আয়ের প্রধান উৎস বানাচ্ছেন।
এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, ‘ট্যাক্সের হার বাড়ানো কোনো বাহাদুরি নয়। বরং ট্যাক্সের আওতা বাড়ানো উচিত। যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা কর দিচ্ছেন না, তাদের কাছ থেকে আদায় নিশ্চিত করুন।’
বড় বাজেটের চেয়ে ছোট কিন্তু গুণগত মানসম্পন্ন বাজেটই এই মুহূর্তে দেশের মানুষের বড় প্রত্যাশা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘আমলারা যেভাবে বাজেট প্রণয়ন করেন, তাতে কেবল তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলনই দেখা যায়। সেখানে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকে না। আমাদের ঐতিহ্যগত বাজেট-ভাবনা থেকে বের হওয়ার পথ দেখাতে হবে।’
তিনি সতর্ক করেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি ও অপচয়ও বাড়বে, যা প্রকৃত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, এসএটিভির বার্তা সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবুল, আউটলুক বাংলার প্রধান সম্পাদক লুৎফুল কবির সাদী, বাংলাদেশ পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খসরুল হাসান এবং ইআরএফের সাবেক সভাপতি রাফায়াতুল্লাহ মৃধাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।






