ঢাবি শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংগৃহীত ছবি
শাহবাগ থানায় মব তৈরি করে শিবির নেতা, ডাকসু নেতা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। টিএসসি ও কলা ভবন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয়ের সামনে থামে এ মিছিল। সেখানে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় কর্মসূচি।
মিছিলে ‘চাঁদাবাজি করে কোন দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘শিক্ষা আর সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’, ‘রামদা আর সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সমাবেশে কথা বলেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং ভুক্তভোগী আব্দুলাহ আল মাহমুদ।
সিবগাতুল্লাহ সিবগার অভিযোগ, ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ওপর হামলা চালিয়েছিল ছাত্রদল। যোগ করেছেন তিনি, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলেও একদিনে এতগুলো সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়নি।
নোংরা ফটোকার্ড ছড়িয়েছে যারা, তাদের ব্যক্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ছাত্রশিবিরের এ নেতা। বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান সেটিকে মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে বলে উল্লেখ করছিলেন তিনি। গণরুম-গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা তার। কল্যাণের রাজনীতিতে ফিরে আসতে ছাত্রদলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন সিবগাতুল্লাহ।
শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেছেন, ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড দেখলে হাসি পায়। এখনও নব্বইয়ের দশকে তাদের বসবাস। ঈশ্বরদী কলেজের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে তারা। কেন? কারণ তারা চায় পাল্টা হামলা করুক শিবির। তারপর ন্যারেটিভ তৈরি করে ক্যাম্পাস দখল করবে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন এ ডাকসু নেতা, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দুই ধরনের উপাচার্য রয়েছে। একজন ভিসিকে দায়িত্ব নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আরেকজনের জন্য শিক্ষার্থীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে রাত জেগে দোয়া করেছে। ঠিক করুন, কোনটি হবেন আপনি।’
ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেছেন, আজব এক দেশে তাদের বসবাস। নিরাপত্তার জন্য থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল একজন শিক্ষার্থী, তখন সন্ত্রাসী বাহিনী ডেকে এনে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছিল প্রশাসন। অথচ জুলাই পরবর্তী সময়ে গঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।
যোগ করেছেন তিনি, ‘গতকালের ঘটনায় আমরা তাদের আওয়ামী প্রশাসনের ভাষায় কথা বলতে দেখেছি। আমরা জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দেখতে চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে সংঘটিত মবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ভাষ্য, গতকাল পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ মেসেঞ্জারে আসতে থাকে হত্যার হুমকি। নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে সেখানে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী হত্যার হুমকি দিতে থাকে। পুলিশ জিডি তো নেইনি, উল্টো একরাত থানায় বসিয়ে রেখে হয়রানি করেছে। সকালে শুধু একটি সাধারণ অভিযোগ নিয়েছে তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও বলেছেন, ‘ভেবেছিলাম, ৫ আগস্টের পর পরিবর্তন হয়েছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশলীগ শুধু পরিণত হয়েছে পুলিশদলে।’

