কচুরিপানার মধ্যে উঁকি দিচ্ছে ফ্যাসিস্ট আ.লীগ: রিজভী

মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখছিলেন রুহুল কবির রিজভী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ পচা পানির কচুরিপানার মধ্য দিয়ে আবার উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
এর আগে মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে পালিত হয় এই কর্মসূচি।
রিজভী উল্লেখ করেন, যারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর কেড়ে নিয়েছিল, যারা সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিল, যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল এবং মানুষের বাঁচবার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল— তারা আজ নানা কায়দায়, নানাভাবে চুরি করা লাখ লাখ টাকা ব্যবহার করে সমাজের মধ্যে ও দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
‘বহুদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল এবং ভয়ংকর দুঃশাসনের মাধ্যমে রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিল। তার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক সরকার হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা এখন চক্রান্তের বেড়াজাল বোনার চেষ্টা করছে।’
রিজভী বলছিলেন, ‘আমাদের ১৭ বছর দমাতে পারেনি— বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছে, র্যাব পাঠিয়েছে, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছে; জনির মতো অসংখ্য সৈনিক, জাতীয়তাবাদের সৈনিককে আপনারা হত্যা করেছেন। চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকে আপনারা গুম করেছেন। সেই গুমের রাজত্ব কি আবার ফিরে আসবে? জনগণ কি সেটা সমর্থন দেবে? আবার কি ক্রসফায়ার ফিরে আসবে?’
উপস্থিত নেতাকর্মীরা তখন উচ্চকণ্ঠে বলেন— না।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলছিলেন, ‘তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজ করবে। তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছেন— যেটা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।’
‘তারা (আওয়ামী লীগ) এত সাহস পেল কী করে? একটা মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের জীবন গেল। দুই লাখ মা-বোন নির্যাতিত হলেন। সেই জাতিকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) গোলাম বানাবেন? দিল্লির কৃতদাস বানাবেন? জনগণ তা হতে দেবে না’— যোগ করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, সাবেক যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।





