
তারিখ
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
সময়
23:00:00
ভেন্যু
হিউস্টন
কড়া সমালোচনার জবাব নিজের মত করেই দিলেন পর্তুগিজ মহারাজা। বয়সকে ভুল প্রমাণ করে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো করলেন জোড়া গোল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ে রাখলেন বড় ভূমিকা। তাতেই কর্পূরের মত উড়ে গেল সব বিতর্ক।
কঙ্গোর সঙ্গে গোল পাননি বলে অনেক কটূক্তি শুনতে হয়েছে ৪২-এ পা রাখার রোনালদোকে। উজবেকদের বিপক্ষে তাকে একাদশে না রাখার রবও উঠেছিল। তবে কোচ রবার্তো মার্তিনেস আস্থা রাখেন রোনালদোয়। পাহাড়সম চাপ লহমায় ছিটকে দিয়ে রোনালদো ফিরেছেন স্বরূপে। ২০০৬ সালের পর থেকে খেলা টানা ছয় বিশ্বকাপেই গোল করার কীর্তি গড়তে সময় নেন মাত্র ছয় মিনিট। জোয়াও কানসেলোর ক্রস থেকে আসা বল চতুর রোনালদো ডান পায়ের সাইডভলিতে পৌঁছে দেনর দূরের পোস্টে।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান নুনো মেন্দেস। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিককে গোলে পরিণত করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। ২৯ মিনিটে অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলের কীর্তি গড়েই ফেলেছিলেন উজবেক ফরোয়ার্ড আজিজ গানিভ। বক্সের বাইরে থেকে তার শট জাল খুঁজে নেয়। তবে ভিএআর-এ সে গোল বাতিল হয়। তার নিঁখুত শটের আগেই ফায়জুল্লায়েভ ফাউল করেন পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারকে।
৩৯ মিনিটে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দশম গোলের দেখা পান রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে দূরের পোস্ট কাঁপান। ফেরার ম্যাচে হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন তিনি। তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে তার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকদির খুসানব।
বিরতি থেকে ফিরেও প্রাধান্য রেখে খেলা পর্তুগিজ চতুর্থ গোলের দেখা পায় ৬০ মিনিটে। উজবেক ডিফেন্ডার খুসানভ আত্মঘাতী গোল উপহার দেন প্রতিপক্ষকে। আর ৮৭ মিনিটে বদলী রাফায়েল লেও গোল করলে বড় জয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগিজরা।
৮৭ মিনিটে পর্তুগালকে ৫-০ গোলে এগিয়ে নিলেন বদলী নামা রাফায়েল লেও। আরেক বদলী নেলসন সেমেদো ডান প্রান্ত থেকে ক্রস নেন। এক উজবেক ডিফেন্ডারে বাধা পেয়ে বল চলে যায় আনমার্কড রাফায়েলের কাছে। ডান পায়ের জোড়ালো শট জাল কাঁপান এসি মিলান ফরোয়ার্ড।
৬০ মিনিটে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে এবার দলটির হয়ে কেউ গোল করেননি। ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্না গোলমুখে আসলে ফেলিক্স ফ্লিক করেছিলেন। তা উজবেক ডিফেন্ডার খুসানভের শরীর ও কিপার নেমাতভের গ্লাভস ছুঁয়ে পোস্টে জড়ায়।
শুরু হয়ে গেছে পর্তুগাল-উজবেকিস্তান ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল পর্তুগাল
এখন ম্যাচে বিরতি। পর্তুগাল ৩-০ গোলে এগিয়ে আছে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে হ্যটট্রিকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনালদো। সতীর্থের ক্রসে ছোঁয়ান পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে গোললাইন থেকে সেটি ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আবদুকদির খুসানব।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল দূরের পোস্টে জমা করেন রোনালদো। পর্তুগাল এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। রোনালদো পেয়ে যান বিশ্বকাপে দশম গোলের দেখা।
২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন আজিজ গানিভ। তবে ভিএআর সে গোল বাতিল করে। তার প্রচেষ্টার আগেই ফায়জুল্লায়েভ ফাউল করেন পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারকে
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে অনন্য এক রেকর্ডের দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ডে এখন ক্যামেরুনের রজার মিলার পরেই আছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন স্বদেশী পেপে ও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে।
১/ রজার মিলা (ক্যামেরুন), ৪২ বছর এবং ৩৯ দিন
২/ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল), ৪১ বছর এবং ১৩৮ দিন
৩/ পেপে (পর্তুগাল), ৩৯ বছর এবং ২৮৩ দিন
৪/ লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), ৩৮ বছর এবং ৩৬৩ দিন
১৭ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে জাল খুঁজে নেন নুনো মেন্দেস। তার বাঁ পায়ের শট মানব দেওয়াল ফাঁকি দিয়ে পোস্টে জড়ায়। পর্তুগাল এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দারুণ সাইড ভলিতে বিশ্বকাপে নিজের নবম গোলের দেখা পান তিনি।
২০০৬ সাল থেকে টানা ছয় বিশ্বকাপে গোলের একমাত্র কীর্তি গড়লেন পর্তুগিজ তারকা। ছয় বিশ্বকাপে তার এখন নয় গোল।
বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর বিপক্রুষে পর্তুগালের আগের ছয় ম্যাচে ৩টি জয়, ১টি ড্র এবং ২টি হার। তাদের সবচেয়ে সাম্প্রতিক মোকাবিলাটি ছিল ২০২২ সালের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। সে ম্যাচটা তারা হেরেছিল ২-১ ব্যবধানে। অর্থাৎ এশিয়ান প্রতিপক্ষে কিছুটা অস্বস্তি আছে পর্তুগিজদের।
প্রথম ম্যাচ কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করার পর আজ এশিয়ান প্রতিপক্ষকে হারানোর বিকল্প নেই রোনালদোদের।