জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার চান জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা

সংগৃহীত ছবি
সংবিধান সংশোধন নয়, টেকসই সমাধানের জন্য ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার চায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের আইনজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল’।
আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আরো বলেছেন, আমরা বলছি, একটি টেকসই সমাধান চাই। সংবিধান সংশোধন কোন টেকসই সমাধানের পথ নয়।
তার মতে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। এটি গণঅভ্যুত্থানের আইনি দলিল। বর্তমানে কার্যকর। এই আইন সকলের উপর বাধ্যকর। বাংলাদেশের কোনো আদালত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। ফলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সকল সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত ও যথাযথ পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটা সরকার মানতে চায় না। অথচ এটা একটা বৈধ আইন। কোনো আদালত এটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। এই আইন যদি অমান্য করতে হয়, সংসদ সদস্যরা যদি অমান্য করেন, সরকার যদি অমান্য করে, তাহলে দেশের আইনের শাসনটা থাকবে কোথায়? পার্লামেন্টের মেজরিটির জোরে কোনো কিছুকে অসাংবিধানিক বলে দিতে পারে না।
‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’র বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া রিট মামলটি লড়তে বিএনপিকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন জামায়াতপন্থী এই আইনজীবী। বলেছেন, কোর্টে ফাইট করেন। সিদ্ধান্ত হোক, তারপরে আপনারা বলেন। কোর্টেও তো ফাইট করছেন না। মামলাটা তো শুনানি করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেই, আপনারা খালি পিছিয়ে যান।
সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটা সরকার গঠিত হয়েছে। সেই সরকার একটা সর্বদলীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটা গণভোটের ব্যাপারে বা অন্যান্য সংস্কারের ব্যাপারে ঐক্যমত্য হয়েছে এবং সেইটাকে লিগ্যাল কাভারেজের জন্য জন্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ করা হয়েছে।
তার মানে হচ্ছে, এই পুরো কাজটা জনগণের ইচ্ছা, অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি রূপে হয়েছে। এবং সেইটাকে অধিকতর শক্তিশালী করার জন্য একটা গণভোট করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ এটার পক্ষে রায় দিয়েছেন। সুতরাং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হচ্ছে জুলাই সনদের কমপ্লিট বাস্তবায়ন এবং সেটার মধ্যেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সেটার মধ্যেই সংবিধান সংস্কার রয়েছে। এখন যেকোনো যুক্তিতে আপনি এটাকে যদি বাতিল করার চেষ্টা করেন, সেইটা হচ্ছে অবৈধ। আপনি জনগণের রায় এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান করলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (এমপি), ব্যারিস্টার নজিব মোমেনসহ অনেকে।




