জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে : জামায়াত আমির

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিলেও সেই ভোট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের বলে, ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন তাদের বলতে হয়, নিজেদের দুর্বলতা ছিল।
আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারা থামবেন না, থামার সুযোগও নেই। সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। সেসব ভুলের আলোকে এবার কাজ করলে আর ভুল হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশ কারা পরিচালনা করবে, তা জনগণই ঠিক করবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে মানুষ তাদের এত ভালোবাসা দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাজ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তারা বসে বসে আর তামাশা দেখবেন না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করবেন এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এই দেশ কোরআনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
সম্মেলনে ধর্মীয় ও সাংগঠনিক দায়িত্বের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। তার বিশ্বাস, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদেরও আল্লাহর পথে অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ শতাংশ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন, যারা দিন এনে দিন খান বলেও দাবি করেন তিনি।
রুকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহ যাদের সম্পদ দিয়েছেন, তাদের উচিত সেই নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করা। জান্নাতের জন্য নিজেদের ঠিকানা তৈরি করতে হবে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং সব সময় তার সাহায্য কামনা করতে হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল হবে। রুকনিয়াত হলো জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রুকনদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাদের মান ও আধ্যাত্মিক শক্তি যত বাড়বে, সংগঠনও তত শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, আগামী মেয়র নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। তাহলে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে যথাযথ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের মান উন্নত, ভালো ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হবে। আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি মজবুত সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।



