গোলাম পরওয়ার
সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত সরকার, বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই

ছবি: আগামীর সময়
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবিধান নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর যখন জনগণ একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিজ্ঞায় মগ্ন, তখন সরকার ও তাদের মন্ত্রী মিনিস্টাররা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কাজে লিপ্ত। দেশের মূল সমস্যা জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের কাছে কোনো (হেডেক) মাথাব্যথা নয়।
আজ সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
গোলাম পরওয়ার বললেন, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতির কারণে বাসাবাড়িতে মা-বোনেরা ঠিকমতো চুলা জ্বালাতে পারছেন না। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অথচ এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্যাসের মূল্য বাড়ছে; কিন্তু সরবরাহ কমছে। তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশীদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় উৎপাদন দিন দিন কমছে, অথচ নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের নেই।
বিদ্যুৎ খাতের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বললেন, ২০২৪-২৬ সালের মধ্যে দেশে দুই দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ কাটা হচ্ছে। এ ছাড়া জুনে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করে, পরে জুলাইয়ে অতিরিক্ত বিলের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। পিডিবির মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও, গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি বিল আদায় করে এক প্রকার লুটপাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, কাঁচা মরিচ, মোটা চাল, মিনিকেট চাল, মসুর ডাল, চিনি ও রসুনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকারের চাটুকারিতা করে এক শ্রেণির টকশোজীবীরা প্রমোশন পেলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের কোনো কার্যকর নজর নেই।
অবিলম্বে দেশে গ্যাস ও জ্বালানিকেন্দ্রিক একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বললেন, দলীয়করণের সর্বনাশা পথ পরিহার করে সরকারের উচিত দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। দলদাসদের বড় বড় পদে বসিয়ে দেশের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাস ও জাবের ইব্রাহিমদের রক্তকে যারা অস্বীকার করবে, তাদের জনগণ ক্ষমা করবে না।




