ডাকসুর সংস্কার আলাপ
গণভোট অস্বীকার করলে জনগণ আন্দোলনে ফিরে যাবে

ছবিঃ আগামীর সময়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার : নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক সংস্কার আলাপ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ভিপি সাদিক কায়েম।
আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ‘সংবিধান কেবল আইনের ধারা নয়, এর রয়েছে মৌলিক চেতনা। যা উপেক্ষা করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র। তারা অভিযোগ করেছেন, গণভোট ও সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান দ্ব্যর্থক, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে জনমনে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার সুযোগ তৈরি করেছে জুলাই অভ্যুত্থান। কিন্তু সেটিকে অস্বীকার করে কেবল নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেওয়া পরস্পরবিরোধী। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে আপার হাউস ও কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মতো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দুর্বল করতে পারে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে।’
সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ করতে একটি ফ্যাসিস্ট চক্র তৈরি হয়েছে, যা ভাঙতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা জরুরি। একইসঙ্গে বিএনপিকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা দমন করা হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে বলে সভায় বলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের আন্দোলন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা শুরু হতে পারে আবারও।
সাম্প্রতিক সময়ের গণভোটে স্পষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থন পূর্বের তুলনায় বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের যেকোনো উদ্যোগ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, ‘জনগণই প্রকৃত সার্বভৌম, সংসদ নয়। গণভোটের ম্যান্ডেট অস্বীকার করা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার শামিল এবং এতে শুরু হতে পারে গণআন্দোলন।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেছেন, ‘গণভোটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, যা নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে এ উদ্যোগকে।’
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনীহাকে বাংলাদেশের মূল সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সাংবাদিক রাজীব আহাম্মদ। তার দাবি, ‘এ কারণে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে, যা দুর্বল করে গণতন্ত্রকে।’ এ সময় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও শক্তিশালী সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, সংস্কার সংলাপের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছে ডাকসু। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় আবারও আন্দোলনে ফিরে আসতে পারে জনগণ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন। এতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সম্পাদকবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।















