শিক্ষার উদ্দেশ্য নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা : রবিউল আলম

সংগৃহীত ছবি
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নির্বাহ নয়, নিজেকে একজন যোগ্য ও ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগানে লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবনির্মিত প্রধান ফটক উদ্বোধন, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের জাতীয় সংগীতের শুরুতেই রয়েছে, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। দেশের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে প্রকাশ করতে হবে, তার অন্যতম পথ হলো নিজেকে দেশের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের সেই লক্ষ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’
বিদ্যালয়ের মান শুধু কতটি ভবন আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে কি না কিংবা আসবাবপত্র কতটা ভালো, তার ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত শিক্ষা পাচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য শিক্ষা অর্জন করব, এটি আমি বিশ্বাস করি না। ভালো উপার্জনের জন্যও শিক্ষা প্রয়োজন, কিন্তু শিক্ষিত জাতি গড়তে হলে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও জরুরি।’
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিজের যত্নের বিষয়ে সচেতন হতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। নেতৃত্ব শুধু রাজনীতিতে নয়, পেশাগত ও সামাজিক জীবনেও প্রয়োজন।
অভিভাবকদের উদ্দেশে রবিউল আলম বলেন, সন্তান পরীক্ষায় প্রথম বা দ্বিতীয় না হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাকে বকাঝকা না করে পাশে থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা অর্জনে উৎসাহ দিতে হবে। সন্তানকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজস্ব প্রতিভা ও আগ্রহ বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যা পছন্দ করেন, আপনার সন্তানের সব গুণাবলি তার মধ্যে থাকতে হবে, এমন নয়। সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক সন্তানের মধ্যে আলাদা কিছু প্রতিভা দিয়েছেন। সেটিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে সন্তান আপনার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করতে পারে।’
শিক্ষকদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও সক্ষমতা এক নয়। শিক্ষকরা কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করে তাদের কোন বিষয়ে আগ্রহ ও দক্ষতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে পারেন। তাই বাবা-মায়ের ইচ্ছা চাপিয়ে না দিয়ে শিক্ষকদের পরামর্শকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। এই বিদ্যালয়কে আরও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করতে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রবিউল আলম বলেন, ‘নিজেকে গড়ার জন্য শতভাগ সময় ব্যয় করো। তুমি যে সময় ব্যয় করবে এবং যা শিখবে, সেটিই তোমার প্রকৃত সম্পদ। জ্ঞান ও যোগ্যতা এমন সম্পদ, যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করলেও কমে না, এর সুফল পুরো বিশ্ব পায়।’




