গণরুম-গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে, আর ফিরবে না: জামায়াত আমির

কথা বলছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান - আগামীর সময়
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণরুম-গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে ২৪-এ। এটা আর ফিরে আসবে না। এখন যদি কেউ ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে তাদেরকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বটতলায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এখনও দেশে ‘স্বৈরশাসকের ভাষা’ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কিছু গোষ্ঠী মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর চলতে দেওয়া হবে না।
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে মন্ত্রীদের বিপুল সম্পদের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমরা বৈষম্য চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে আগ্রহী নয়।
গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ছাড় নাই, এক সুতাও ছাড় নাই। কোনো ‘ধানাই-পানাই’ মানব না। জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করব না। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির বললেন, এখনও বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক অপচর্চার কবল থেকে মুক্ত হয়নি। আমরা চুপ করে আছি মানে এই নয় যে আমরা ঘুমিয়ে গেছি।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে। যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
‘দেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না এবং যুবকদের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত তারা’, উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।




